ভারতে বাংলাদেশের তিনটি মিশন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই মিশনে দায়িত্ব পালন করা চার গোয়েন্দা কর্মকর্তার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তৃতীয় কোনো দেশে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানিয়েই তারা দেশ ছেড়েছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি।
আশরাফ হোসেনের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি মিশনের দেওয়া নোট ভারবাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। কীভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেন এবং তার নামে মিশন থেকে কীভাবে নোট ভারবাল দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কূটনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সংশ্লিষ্ট মিশনের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা তুলনামূলকভাবে কঠিন।
একইভাবে নয়াদিল্লি হাইকমিশনের উপপরিচালক (ডিডি) নাসিরউদ্দিনও যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তিনি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দিল্লি থেকে দেশে ফেরেন। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগ না দিয়ে সেখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বলে সূত্র জানিয়েছে। তার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লি মিশনের কনসুলার শাখার মাধ্যমে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
কলকাতা ও দুবাই থেকেও দেশত্যাগ
কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনে কর্মরত মাহমুদুল হাসান পলাশও ৫ আগস্টের পর লন্ডনে চলে গেছেন বলে সূত্রের দাবি। পরে তিনি সেখান থেকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত শেখ হাসিনার একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনেও তিনি বক্তব্য দেন বলে সূত্র জানিয়েছে। ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগের একটি পদে ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া দুবাই মিশনে কর্মরত যুগ্ম পরিচালক বদরুল ইসলামও ৫ আগস্টের পর দুবাই থেকে তৃতীয় কোনো দেশে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
সূত্রের দাবি, চার কর্মকর্তাই ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন। তবে তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সরকার বিব্রত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানা গেছে।