সুনামগঞ্জ শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ট্রাফিক পয়েন্টে হক সুপার মার্কেটসহ অন্তত ১০টি দোকানে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি তারা সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। ৩১ মার্চ, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের পক্ষ থেকে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করেন। সংসদ সদস্য বর্তমানে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকায় অবস্থান করায় তাঁর বিশেষ নির্দেশনায় এই প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়।
পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার কথা শোনেন। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে এবং তিনি ঢাকা থেকে ফিরলেই ব্যক্তিগতভাবে এলাকাটি পরিদর্শন করবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আকবর আলী, আ ত ম মিসবাহ, নজরুল ইসলাম, নাদির আহমদ ও রেজাউল হক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহমদ লিলু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল্লাহ হাসান জুনেদ, সদস্য সচিব মুর্শেদ আলম এবং জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
এর আগে গত সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। চেম্বার সভাপতি মো. সামছুল হকের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি দোকানের ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে চেম্বার নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. জিয়াউল হক, চেম্বারের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ এনামুল হক, পরিচালক নূরুল হক, মোকাররম হোসেন, আমিনুল ইসলাম সেলিম ও আব্দুস সামাদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে শহরের ব্যস্ততম ট্রাফিক পয়েন্টে হক সুপার মার্কেটে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনে ১০ থেকে ১৫টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
অগ্নিকাণ্ডের শিকার ব্যবসায়ীরা জানান, হঠাৎ লাগা এই আগুনে তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পুঁজি হারিয়ে গেছে। এই মুহূর্তে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ের জোরালো সহযোগিতা তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
