যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক প্রাইমটাইম ভাষণে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি এই সংঘাতকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্য একটি “বিনিয়োগ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া প্রায় ১৯ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় দাদাগিরি করা দেশ ছিল ইরান, কিন্তু এখন তারা আর সেই অবস্থানে নেই।”
ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতাকে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, “এই ধরনের একটি সহিংস শাসনব্যবস্থা যদি পারমাণবিক অস্ত্র পায়, তাহলে তা বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা, সন্ত্রাস এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবে। আমরা কখনোই তা হতে দেব না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে ইরানের হামলা দায়ী, বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আক্রমণের কারণে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরু করার পর থেকেই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপক হারে ওঠানামা করছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর উৎপাদন হ্রাস এবং সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের ১১ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি “ধ্বংস” করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল করেছে।
তবে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক হামলা চালাবে।
তিনি বলেন, “আমরা তাদের অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করব। প্রয়োজন হলে তাদের সম্পূর্ণভাবে অচল করে দেওয়া হবে।”
স্থল অভিযানের বিষয়ে কোনো উল্লেখ না করলেও ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি “অপ্রতিরোধ্য” এবং ইরানের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে।
ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি অতীতের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধগুলোর সঙ্গে বর্তমান সংঘাতের তুলনা করে বলেন, এই অভিযান দীর্ঘমেয়াদি হবে না। তার ভাষায়, “আমাদের এই সামরিক অভিযান মাত্র ৩২ দিন চলছে, এবং ইতোমধ্যে শত্রু প্রায় সম্পূর্ণভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।”
সবশেষে ট্রাম্প আমেরিকানদের উদ্দেশে বলেন, এই সংঘাতকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
