
ছবি: প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাপাসিয়া বাজার থেকে পাবুর, চেরাগআলী ও নরুন হয়ে গাজীপুর শহরে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কটি এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজারো যাত্রী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ, শ্রীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের জন্য এই সড়কটি গাজীপুর শহরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়।
পাবুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল সরকার বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্কুলে পৌঁছাতেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
সিএনজি অটোরিকশা চালক সোহরাব হোসেন জানান, আগে যেখানে ৪০ মিনিটে গাজীপুর পৌঁছানো যেত, এখন সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। একই ধরনের অভিযোগ করেন অটোরিকশা চালক মো. সোহেল মিয়া। তিনি বলেন, রাস্তার গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে আয় কমে যাচ্ছে, বাড়ছে খরচের হিসাব।
পিকআপ চালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে ডুবে যায় এবং সড়ক অপ্রসস্থ হওয়ায় তখন দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
নিয়মিত যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, “গাজীপুরে চাকরির কারণে প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করতে হয়। সড়কের বেহালদশা ও অপ্রসস্থ হওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হয় না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, কাপাসিয়া বাজার থেকে চেরাগআলী মোড় পর্যন্ত সড়কে প্রায় ৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও ৫১টি ছোট-বড় খানাখন্দ রয়েছে। অনেক স্থানে রাস্তা এতটাই সরু যে দুটি যানবাহনের একসঙ্গে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
ডেফুলিয়া বাইতুন আমান জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ নুরুজ্জামান বলেন, হোসেনপুর ও কিশোরগঞ্জের অনেক যাত্রী দ্রুত গাজীপুরে যেতে এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু সড়কের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
চেরাগআলী মোড়ের ব্যবসায়ী বাদল ভান্ডারী বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করলেও এর প্রসস্থকরন ও উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
তিলশুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা শিউলী আক্তার বলেন, অনেক জায়গায় সড়ক এত সরু যে একটি গাড়িকে থেমে অন্য গাড়িকে যেতে দিতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন নয়। এটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন। আমরাও এই সড়কে যাতায়াত করি। এই সড়কটি প্রসস্থকরন অতিজরুরী।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, সড়কের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের অবহেলায় গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি এখন সংস্কার ও প্রসস্থকরনের অপেক্ষায়। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।