
ছবি: প্রতিনিধি
আজমিরীগঞ্জ উপজেলার চারদিকে বোরো হাওরবেষ্টিত ইউনিয়ন বদলপুর। গাড়িতে যোগাযোগের রাস্তায় এখন অগ্রগামী এই এলাকা। গত ১১ জুনের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার খবর পৌঁছে গেছে এ ইউনিয়নের হিলালপুর গ্রামের কৃষক ওয়ারিছ মিয়ার কাছেও। অঙ্কের জটিল হিসাব-নিকাশ না বুঝলেও বাজেটের পর নানা জায়গায় খরচ বেড়ে যায়, তা বেশ ভালোই বোঝেন তিনি।
বাজেট নিয়ে জানতে চাইলে ওয়ারিছ মিয়া বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। দেশ বাঁচলে সরকার বাঁচবে। এ কথাটা বুঝতে হবে সব সরকারকে। দিনকে দিন নানা ছুতায় সারের দাম বেড়ে গেছে অনেক। বিদ্যুৎ থাকে না, তেলের দাম বেড়েছে। এসবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা। কৃষকরা যেন ফসলের ন্যায্যমূল্য পান।”
নিজের শঙ্কার কথা জানিয়ে ওয়ারিছ বলেন, “এবার ৩০ বিঘা জমিতে ধান ও বোরো চাষ করেছি। নিজের শ্রম, শ্রমিকের টাকা ও সবশেষ বন্যার আক্রমণে খরচও ওঠেনি। আমাদের যে খরচ ওঠে না, লাভ হয় না, পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব—এসব সরকারকে ভাবতে হবে।”
নিজের গ্রাম হিলালপুরের উদাহরণ টেনে কৃষক বলেন, “প্রতিবারই সরকার নানা প্রণোদনা কৃষকদের দিয়ে থাকে। কিন্তু গত দশ বছরেও এই গ্রামের একজনও কৃষক কোনো প্রণোদনা পাননি। কত সরকার এলো-গেল, আমাদের অধিকার আমাদের কাছে পৌঁছে দেয় না।”
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, নানা প্রতিকূলতার কারণে কৃষিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক। খরচ না উঠলে, লাভ না হলে কেন করবে এসব? তার ভাষ্য, “এলাকার ছেলেদের বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে এখানকার কৃষক পরিবারগুলো। কারণ দেশে থাকলে খেয়ে-পরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভালো পড়াশোনা করানো যাবে না। তাই সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় কৃষিকাজ ছেড়ে কেউ বিদেশ যাচ্ছেন, কেউ চাকরি-বাকরি করছেন, গ্রাম ছাড়ছেন।”
“এবারের বাজেটে কৃষিপণ্য চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্য তেলের ওপর উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ তথ্য জানানো হয় কৃষক ওয়ারিছ মিয়াকে। তার প্রতিক্রিয়া, ‘এসব হিসাব-নিকাশ বুঝি না। কৃষিমন্ত্রী ও বিদ্যুৎমন্ত্রীর কাছে আহ্বান, কৃষিকাজে খরচ বেড়েছে। সারের দাম যেন না বাড়ানো হয়, তেলের দাম যাতে না বাড়ে, বিদ্যুৎ যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে—এটাই প্রত্যাশা।’”