ঢাকা: ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বহুমাত্রিক আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে বহুমাত্রিক আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, ডিজিটাল পূর্বাভাস প্রযুক্তি, সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি), বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, কমিউনিটিভিত্তিক সতর্কীকরণ কার্যক্রম এবং ঝুঁকিভিত্তিক আগাম পদক্ষেপ সম্প্রসারণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ইন্টারেক্টিভ ভয়েস রেসপন্স (আইভিআর), মোবাইলফোনভিত্তিক বার্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আগাম সতর্কতা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহকে জিআর (খাদ্য ও নগদ), ঢেউটিন, শীতবস্ত্র, শুকনো খাবার, গৃহ নির্মাণ ও মেরামত সহায়তা, শিশুখাদ্য, গোখাদ্য এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশেষ বরাদ্দও দেওয়া হয়।’
উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ৩২৭টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে এবং আগামী তিন বছরে আরও ৯০টি বহুমুখী সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘দুর্যোগকালীন নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।’
এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।