
নাচোলে দিনব্যাপী রুকন শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা মডেল মসজিদ সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাচোল উপজেলা শাখার আয়োজনে দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ রুকনদের (সদস্য) সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, আধ্যাত্মিক উন্নয়ন এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৭ টায় রুকন শিক্ষা শিবিরের উদ্বোধনী অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন, নাচোল উপজেলা আমীর প্রভাষক মোঃ ইয়াকুব আলী।
তিনি একটি সুশৃঙ্খল, মাদকমুক্ত, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিমুক্ত আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক পরিবর্তনের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে কঠোর শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখা আবশ্যক। সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
দিনব্যাপী এই শিক্ষা শিবিরের সূচি অত্যন্ত সুবিন্যস্ত ছিল । উদ্বোধনী বক্তব্যের পর একে একে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা পেশ করেন দলটির জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। নাচোল সদর ইউনিয়ন আমীর মেসবাহুল হক গনী মাসুদের সঞ্চালনায় ধারাবাহিক বক্তব্য প্রদান করেন।

দারসুল কুরআন ( সুরা নিসা ৩৬-৪০) বিষয়ের উপর আলোচনা করেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক মোঃ আবু বকর।পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ৩৬ থেকে ৪০ নম্বর আয়াতের আলোকে তিনি মানুষের হক বা অধিকার আদায়ের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি পিতামাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, প্রতিবেশী এবং অধীনস্থদের প্রতি সদাচরণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাঙ্ক্ষিত মান বিষয়ে আলোচনা করেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ইয়াহ্ইয়া খালেদ। তিনি একজন রুকনের ব্যক্তিগত ও আদর্শিক মান কেমন হওয়া উচিত তা ব্যাখ্যা করেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কর্মীদের নিয়মিত আত্মগঠন, তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন এবং উন্নত চরিত্রের অধিকারী হওয়ার তাগিদ দেন।
ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ (আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয়) বিষয়ে বক্তব্য দেন জেলা আমীর মাওলানা মোঃ আবু জর গিফার। ইসলামী আন্দোলনের গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং মানবতার সেবায় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পদ ব্যয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ত্যাগ ও কোরবানির মানসিকতা ছাড়া দ্বীন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, তাই কর্মীদের উপার্জনের একটি অংশ নিয়মিত আল্লাহর পথে ব্যয় করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
দুপুরের অধিবেশনে ‘আনুগত্য ও পরামর্শ বিষয়ে বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম । তিনি সংগঠনের অন্যতম মূল ভিত্তি ‘আনুগত্য ও পরামর্শ’ (শুরা) ব্যবস্থার ওপর আলোচনা করেন। সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন এবং যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে পারস্পরিক পরামর্শের গুরুত্ব তিনি কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিশ্লেষণ করেন।
এছাড়া ‘পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কৌশল’ বিষয়ে আলোচনা করেন রাজশাহী জোনের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম । তিনি সাংগঠনিক কাজকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার জন্য আধুনিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন। কীভাবে সময়োপযোগী পরিকল্পনার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন করা যায়, সে বিষয়ে তিনি রুকনদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
‘ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের মুয়ামিলাত’ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন , জেলা নায়েবে আমীর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের এমপি ড. মুহা. মিজানুর রহমান। তিনি কর্মীদের পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্ক, সততা, ব্যবসায়িক বা আর্থিক লেনদেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে মার্জিত ও সুন্দর আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একজন কর্মীর ‘মুয়ামিলাত’ বা আচরণ দেখেই সাধারণ মানুষ ইসলামের সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হবে।
দিনব্যাপী এই শিক্ষা শিবিরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রায় ২৫০ জন পুরুষ ও নারী রুকন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মোবারক হোসেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, পৌর সেক্রেটারি খলিলুর রহমান ও নায়েবে আমীর ডা. রফিকুল ইসলাম, নেজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল হক ও আমীর ওয়াবাইদুল্লাহ , নাচোল ইউনিয়ন আমীর মেসবাহুল হক গনী মাসুদ। এদিন তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক আলোচনার পর বিকেলে গ্রুপ ডিসকাশন (দলীয় পর্যালোচনা) এবং সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে রুকনদের সাংগঠনিক ও নৈতিক মানোন্নয়নের এই শিবিরের সমাপ্তি ঘটে।