এক রাত আগেও মাথার ওপর ছিল নিজের ঘর। ঘরে ছিল প্রয়োজনীয় আসবাব, কাপড়চোপড় ও সংসারের নানা সামগ্রী। রান্নাঘরে ছিল খাবারের ব্যবস্থা। কিন্তু ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই বদলে গেছে সবকিছু। এখন পোড়া ঘরের ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই। পরনের কাপড় ছাড়া সাত সদস্যের পরিবারটির কাছে অবশিষ্ট নেই কোনো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
কোথায় রাত কাটাবেন, কী খাবেন, কীভাবে আবার ঘর তুলবেন, এসব প্রশ্নে দিশেহারা পরিবারটি। তাদের একমাত্র ভরসা এখন সরকারি সহায়তা।
ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে জয়তুন বেগমের বাড়িতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘর, রান্নাঘর ও পাশের কাছারি ঘরে। স্থানীয়দের ধারণা, অগ্নিকাণ্ডে পরিবারটির ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
জয়তুন বেগম জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘুম ভেঙে গেলে তিনি বসতঘরের পাশের কাছারি ঘরে আগুন দেখতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। গোপালগঞ্জ শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনটি ঘর পুড়ে যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জয়তুন বেগম বলেন, “এখন আমরা দিশেহারা। আমাদের খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। রাতে মাথা গোঁজারও কোনো জায়গা নেই। আমার পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই।”
তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আমার ছেলে মামুন মোল্লা। এই ঘটনায় সেও অনেক ভেঙে পড়েছে। নিজেদের টাকায় আবার ঘরবাড়ি তৈরি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারি সাহায্য ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই।”
রোববার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর জায়গায় পড়ে আছে ছাই, পোড়া টিন ও কাঠ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু জিনিসপত্র। যে উঠানে একদিন আগেও ছিল পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, সেখানে এখন পোড়া গন্ধ আর ধ্বংসস্তূপ।
স্বজন ও প্রতিবেশীরা এসে পরিবারটির পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং সান্ত্বনা দিচ্ছেন। তবে তাদের চলে যাওয়ার পর আবারও নেমে আসছে অনিশ্চয়তা। শিশু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে কোথায় রাত কাটাবেন, কীভাবে খাবারের ব্যবস্থা করবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল। অগ্নিকাণ্ডে তাদের ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় সব জিনিস পুড়ে যাওয়ায় তারা চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন। এই মুহূর্তে তাদের খাবার, পোশাক ও নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন। পাশাপাশি ঘর পুনর্নির্মাণে সরকারি সহায়তাও জরুরি।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৌশিক আহমেদ বলেন, “আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাটি জেনেছি। আমি খুবই মর্মাহত। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন পাঠানোর ব্যবস্থা নেব। আশা করছি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি সহায়তা পাবে।”