মেসিকে নিয়ে ‘ক্লান্ত’ স্কালোনি!

X
লিওনেল মেসিকে কিছু একটা বলছেন লিওনেল স্কালোনি (বাঁয়ে) ইন্টারনেট
সেই একই প্রশ্ন, একই উত্তর। এক-দুই দিন নয়, প্রতিদিন। বছরের পর বছর। ম্যাচের পর ম্যাচ। লিওনেল মেসিকে ঘিরে চলছে এই চক্র। আর্জেন্টিনা কোচ অকপটেই বলে দিলেন, মেসিকে নিয়ে নিত্যই একই কথা বলতে বলতে কিছুটা ক্লান্ত তিনি!
এই ক্লান্তি অবশ্য, সেই ক্লান্তি নয়। এখানে তৃপ্তি’র উপস্থিতি ঢের। কোচকে মেসি আবারও সেই উপলক্ষ্য এনে দিয়েছেন। অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারানো ম্যাচে করেছেন জোড়া গোল। বরাবরের মতোই রেকর্ডের অনেক পাতা করে দিয়েছেন ওলট-পালট।
আলজেরিয়া ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে, মেসি ছুঁয়েছিলেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড। অস্ট্রিয়া ম্যাচের প্রথম গোলে সেটি তিনি নিজের করে নিয়েছেন। দ্বিতীয় গোলে রেকর্ডটা তুলেছেন আরেকটু উচুঁতে।
দারুণ জয়ে, এক ম্যাচ হাতে রেখে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে আর্জেন্টিনা। মেসিও বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ী খেলোয়াড় বনে গেছেন, ১৭টি ম্যাচ জয় নিয়ে। এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটিও জিতেছেন এই মহাতারকা।
মেসির দক্ষতা, নিষ্ঠা, নিবেদন নিয়ে বছরের পর বছর ধরে প্রসংশাই ঝরছে সবার মুখে। স্কালোনিও বলেছেন। সেই একই কথা তাকে অস্ট্রিয়া ম্যাচের পরও বলতে হলো। দলের সেরা তারকাকে নিয়ে নতুন কিছু বলতে না পারার কারণেই যেন, ক্লান্তি অনূভব করলেন তিনি। বল ছাড়া যখন দল কঠিন সময় পার করছিল, তখন, সে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, বল কেড়ে নেওয়ার কাজটি করেছে। তার প্রতিশ্রুতির মাত্রাটা আপনারা দেখেছেন।”
“এর অনেক কারণ আছে। তার নিবেদন আছে এবং এটাই তার ভেতরে সঞ্চারিত হয়, তাকে তাড়িত করে। লিওকে নিয়ে বলার মতো কথা আমার কাছে নেই। সবসময় তাকে নিয়ে কথা বলতে বলতে একটু ক্লান্ত বোধ করি।”
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জালের দেখা মেসি পেতে পারতেন অষ্টম মিনিটে। কিন্তু দুর্বল ও লক্ষ্যভ্রষ্ট পেনাল্টি শটে তিনি হতাশ করেন। ৩৮তম মিনিটে এসে রেকর্ড আটবারের ব্যালন দ’র জয়ী নিখুঁত প্লেসিং শটে এগিয়ে নেন দলকে। ১-০ স্কোরলাইন খুব একটা স্বস্তির না হলেও, আর্জেন্টিনা ছুটছিল জয়ের বন্দরের দিকে। শেষ মুহূর্তে আরেক গোলে, এক ঝটকায় ম্যাচ শেষ করে দেন মেসিই।
আর ওই সময়েও মেসির গোলের তাড়ানায় যারপরনাই মুগ্ধ স্কালোনি,‘ এটা জটিল পরিস্থিতি ছিল। যদিও আমরা স্বস্তিতে ছিলাম এবং ম্যাচ শেষের দিকে এগুচ্ছিলাম। লিওর পারফরম্যান্সে আমি ভীষণ খুশি। কেননা, যখন আমরা ভুগছিলাম, সে আবারও গোল করল।’
মেসির স্তুতির ফাঁকে দলীয় পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বললেন স্কালোনি। অস্ট্রিয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে বল পজেশনে আধিপত্য করতে না পারার হতাশাটুকু আড়াল করলেন না বিশ্বকাপ জয়ী এই কোচ,‘ দল ভুগেছে। অনেক সময় অস্ট্রিয়া কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করছিল এবং আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছিলাম না। আমরা কষ্ট সহ্য করতে জানি এবং দল হিসেবে কষ্ট সইতে পারাটা প্রশংসনীয়। দল জানে, কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হয়। অস্ট্রিয়া এমন এক প্রতিপক্ষ, যাদের খেলোয়াড়েরা খুবই লম্বা, যেকারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। কেউই ভাবেনি, ম্যাচটা সহজ হবে। এ পর্যন্ত খেলা দুই ম্যাচই আমাদের জন্য জটিল ছিল।’
মেসির নৈপূণ্যে, দলীয় প্রচেষ্টায় সব জটিলতা পাশ কাটিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে আর্জেন্টিনা। শিরোপা ধরে রাখার পথে, তারা এগিয়েছে যাচ্ছে ‘ফেভারিট’ দলগুলোর একটি হয়ে। স্কালোনি অবশ্য এই ফেভারিট তত্ত্বে বিশ্বাসী নন মোটেও।
“বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবে খেলা বা তারকা নিয়ে গড়া জাতীয় দলের কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে খেলার মধ্যে আরও অনেক বিষয় আছে, ফিটনেসের মান, আবেগ-এমন অনেক কিছু।”
“আরও অনেক দল আছে, যারা শিরোপা জিততে পারে। বড় দলগুলোর একটা শিরোপা জিতবে। আশা করি, আমরা সেখানে থাকব, শিরোপার দাবিদারদের একটি হব, কিন্তু বড় দলগুলোর একটার মুখোমুখি হওয়া আমাদের জন্য কঠিন হবে। একই সাথে আমাদের মুখোমুখি হওয়াও তাদের জন্য কঠিন হবে।”