বান্দরবানের রুমা উপজেলায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং পরে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তংমক পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, প্রায় চার মাস আগে মা-বাবা বাড়িতে না থাকার সুযোগে তাকে একা পেয়ে একই এলাকার এক যুবক ধর্ষণ করেন। পরে ওই যুবকের আরও তিন বন্ধু পর্যায়ক্রমে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছে কিশোরী।
কিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে এক যুবক তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন আরও দুই যুবক এবং পরে অপর এক যুবক তাকে ধর্ষণ করেন। অভিযুক্তদের একজনের সন্তান রয়েছে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিশোরীর অভিযোগ, ঘটনার প্রায় চার মাস পর তাকে এক পাতা ট্যাবলেট দেওয়া হয়। সেগুলো সেবনের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তাকে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিশোরীর গর্ভধারণ ও পরবর্তী শারীরিক জটিলতার বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায়। স্থানীয় পাড়াবাসীর কাছ থেকেও তারা ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, প্রায় দুই দিন আগে রুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফোনে বিষয়টি জানতে পারেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের সদস্যরা থানায় রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা রুজু ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, প্রায় চার মাস আগে রুমা উপজেলায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।