ছবি: প্রতিনিধি
১৯ জুন ২০২৬: উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে এগোচ্ছে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল। হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা বর্তমান সক্ষমতা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগকে উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ, ক্যান্সার সেন্টার স্থাপন এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা ইউনিট চালুর পরিকল্পনা এ অঞ্চলের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালের নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় হাসপাতালকে ১,৫০০ শয্যার আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে বগুড়ায় আসেন। রোগীর চাপের তুলনায় বিদ্যমান অবকাঠামো ও শয্যা সংখ্যা অনেক ক্ষেত্রেই অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরেই অতিরিক্ত ৩০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের চিকিৎসা সংকট অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অত্যাধুনিক ক্যান্সার সেন্টার স্থাপন এবং বিভিন্ন সুপার-স্পেশালাইজড ইউনিট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের রোগীদের ঢাকামুখী নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন ভাবনা, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির সক্রিয় তদারকি, বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশার উদ্যোগ এবং নবগঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীনের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এ বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বগুড়া ছাড়াও নওগাঁ, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, পাবনা এবং আশপাশের জেলার লাখো মানুষ উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার আওতায় আসবেন। এতে রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে এবং আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী হবে।
শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম নূরুল ইরফান বলেন, “উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক, মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবল সংকট নিরসন এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের অন্যতম আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াদুদুল হক তরফদার বলেন, “যথাযথ বাস্তবায়ন ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে শজিমেক হাসপাতালকে ১,৫০০ শয্যায় উন্নীত করার এই প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা অধিকার নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হবে।”
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন যুগের সূচনা হবে এবং শজিমেক হাসপাতাল দেশের অন্যতম আধুনিক ও আস্থার চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হবে।