বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোনো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেবল পাঁচটি স্থানে সাময়িক জলজট দেখা গিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।
বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর পানির নিচে এমন একটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।’ তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রামবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি বুধবার চট্টগ্রামে সরেজমিন পরিদর্শনে যান এবং বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।
মীর শাহে আলম দাবি করেন, ‘পুরো বিষয়টি ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও কাল্পনিক। ২০২৪ সালের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, একজন সংসদ সদস্য বা কিছু প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি জানান, পরিদর্শনকালে তিনি রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশকে তারা ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন এবং এটিকে উদার মানসিকতার পরিচয় হিসেবে দেখেছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নগরবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, এক-দুই বছর আগের তুলনায় বর্তমানে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকটাই কমে এসেছে।
গত ২৮ এপ্রিল বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্থান পানিতে ডুবে যায়। বিষয়টি গত বুধবার জাতীয় সংসদে ‘পয়েন্ট অব অর্ডারে’ তুলে ধরেন বিএনপির সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
মীর শাহে আলম বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে মোট ৫৭টি খাল রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি খালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়নকাজ সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে ৩০টি খালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ছয়টির কাজ চলমান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ কাজ করতে গিয়ে কিছু জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। হঠাৎ অতিবৃষ্টিতে ওই বাঁধগুলোর কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। ওই দিন চট্টগ্রামে ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। ফলে প্রবর্তক মোড়সহ পাঁচটি জায়গায় জলজট তৈরি হয়েছিল, জলাবদ্ধতা নয়। তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সেই পানি নিষ্কাশন হয়েছে। আজকে চট্টগ্রামে কোনো পানি নেই।
কুশল/সাএ
