খুলনার পাইকগাছায় এক সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য কর্তৃক রেশন ও শিশু কার্ড করে দেয়ার নামে দেড় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রাসিদা বেগম কয়েক মাস আগে ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড তথা বিরাশী, শিলেমানপুর, শ্যামনগর গ্রাম সহ উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়ন হতেও প্রায় ৩২ জন অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের নিকট থেকে শিশু কার্ড ও রেশন কার্ড করে দেয়ার নাম করে প্রত্যেকের নিকট হতে ৫ হাজার করে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী, শিলেমানপুর গ্রামের রায়হান সরদারের স্ত্রী গৃহবধূ রত্না বেগম (৩২) জানান, সাবেক এ ইউপি সদস্য প্রায় ৭ মাস আগে একটি শিশু কার্ড করে দিবে বলে আমার নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা নেয়। টাকা নেয়ার পর ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও কোন কার্ড করে না দেয়ায় আমি তার সাথে যোগাযোগ করতে শুরু করি। যোগাযোগের পর সে আজ কাল করে আমাকে ঘুরাতে থাকে। সর্বশেষ কয়েদিন আগে আমি আমার টাকা ফেরত চাইলে সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তার বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী বিরাশী গ্রামের মৃত আজাদ বিশ্বাসের বিধবা স্ত্রী শাহিদা বেগম (৪৫) বলেন, আমার স্বামী নেই, আমি পরের জমিতে কাজ করে খাই। প্রায় আট মাস আগে রাসিদা মেম্বার আমাকে একটি রেশন কার্ড করে দিবে বলে ৫ হাজার টাকা নেয়। টাকা নেয়ার পরে আজ অব্দি সে আমাকে রেশন কার্ড করে দেয়নি। বর্তমানে আমি তার নিকট আমার টাকা ফেরত চাইলে সে আমাকে টাকা ফেরত দিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়।
বিরাশী গ্রামের মৃত নুর ইসলাম বিশ্বাসের বিধবা স্ত্রী রোমেছা বেগম (৬০) বলেন, সাবেক রাশিদা মেম্বার প্রায় ৭ মাস আগে আমাকে রেশন কার্ড করে দেয়ার নামে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। আমি মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে খাই। আমি এখন টাকা ফেরত চাইলে সে আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। এছাড়াও শিলেমানপুর গ্রামের মৃত তাহের মোল্যার বিধবা স্ত্রী জহুরা বেগম (৫৫) সহ শিলেমানপুর গ্রামের গৃহবধূ তাসলিমা বেগম, স্বামী বিধবা নারী সুকজান বিবি, গৃহবধূ ঝর্না বেগম, বিরাশী গ্রামের গৃহবধূ রহিমা খাতুন, রুমা বেগম, মালথ গ্রামের গৃহবধূ পিয়া, চম্পা ও রাড়ুলী ইউনিয়নের গৃহবধূ রুনা বেগমেরও একই অভিযোগ।
তাদের সকলের নিকট একই পন্থা অবলম্বন করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাবেক এ মহিলা ইউপি সদস্য। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, আমাদের প্রায় ৩২ জনের কাছ থেকে সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রাসিদা বেগম ৫ হাজার করে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন তার কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে বিভিন্ন তালবাহানাসহ আমাদেরকে গালিগালাজ করে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এমতাবস্থায় তাদের দেয়া অতি কষ্টের টাকা ফেরত পেতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এসব অসহায় পরিবারের গৃহবধূরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রাসিদা বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি ৯২ হাজার। তবে উক্ত টাকা আমি আত্মসাৎ কিংবা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে নেয়নি। তাদেরকে শিশু কার্ড ও রেশন কার্ড করে দেয়ার উদ্দেশ্যেই আমি শুধুমাত্র মাধ্যম হয়ে পার্শ্ববর্তী প্রতাপকাটি গ্রামের আনার গাজীর ছেলে অনিক গাজীর নির্দেশে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাকেই দিয়েছি। যার প্রমাণ আমার মোবাইলে রেকর্ডিং রয়েছে। এছাড়াও অনিকের সাথে আমার কথা হচ্ছে দ্রুত তাদের সকলের টাকা ফেরত দিবে বলেও অনিক আমাকে আশ্বস্ত করেছে।
এ ব্যাপারে, সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রাসিদা কর্তৃক দেয়া অনিক গাজীর মোবাইল নং – 01956303484 ‘এ একাধিক বার ফোন দিলেও উক্ত নাম্বারটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে তাদের দেয়া টাকা ফেরত পেতে ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।