প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সীমান্ত এলাকা ও কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে অনেকটাই দূরে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, স্থানীয় চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়—“সম্ভাবনাময় হয়েও কেন পিছিয়ে হালুয়াঘাট?
ভারত সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত বাণিজ্য, কর্মসংস্থান সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও দারিদ্র্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের দাবি, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে এলাকার সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সীমান্ত এলাকায় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ থাকলেও পর্যাপ্ত অবকাঠামো, আধুনিক কাস্টমস সুবিধা ও বিনিয়োগের অভাবে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক গতি তৈরি হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রভাব সীমান্ত অঞ্চলেও পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে কর্মসংস্থানের অভাবে উপজেলার বিপুল সংখ্যক তরুণ কাজের সন্ধানে ঢাকা ও অন্যান্য শহরমুখী হচ্ছেন। অনেকেই আবার বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে পরিবার ও সামাজিক কাঠামোতেও প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হালুয়াঘাটে কৃষি, পর্যটন, ক্ষুদ্র শিল্প ও সীমান্ত বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে অর্থনৈতিক চিত্র বদলানো সম্ভব। বিশেষ করে সীমান্তঘেঁষা উপজেলাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য কার্যক্রম জোরদার হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদীপথ ও বাণিজ্যভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সীমান্ত অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে হালুয়াঘাটকে একটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও কর্মসংস্থানমুখী উপজেলায় রূপান্তর করা হবে।