শুক্রবার , ৮ মে ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. তথ্য-প্রযুক্তি
  7. বিনোদন
  8. মতামত
  9. সর্বশেষ
  10. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফটিকছড়ির ‘কেঁচো গ্রাম’, বদলে যাচ্ছে অর্থনীতির চিত্র

ঢাকা ইনফো২৪
মে ৮, ২০২৬ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারীখিল গ্রাম এখন পরিচিত ‘কেঁচো গ্রাম’ হিসেবে। আর এই পরিবর্তনের সূচনা করেন গৃহিণী উষা বালা, যার হাত ধরে শুরু হওয়া ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন আজ বিস্তৃত হয়েছে ইউনিয়নজুড়ে।

শুরুতে মাত্র ৪০ জন নারীকে নিয়ে একটি গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম চালু হলেও বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন নারী এই কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ফলে পুরো ফটিকছড়ি উপজেলাজুড়ে কেঁচো সার উৎপাদন একটি সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এই গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় প্রতি চক্রে ৫ থেকে ৭ টনেরও বেশি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কেঁচোর প্রজনন বেশি হলে উৎপাদনের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। উৎপাদিত এই জৈব সার বাল্ক আকারে প্রতি কেজি ১০ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা স্থানীয় নারীদের জন্য নিয়মিত আয়ের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই খাতের সঙ্গে যুক্ত নারীরা জানান, আগে যেখানে জীবিকার জন্য বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করতে হতো, এখন তারা ঘরে বসেই পরিবেশবান্ধব উপায়ে আয় করতে পারছেন। এর মাধ্যমে তারা পরিবারের আর্থিক চাহিদা পূরণ এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করছেন।

হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, উষা বালার মতো উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে এই এলাকায় কেঁচো সার উৎপাদন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃষি বিভাগের সহায়তায় নারীরা এতে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ছালেক জানান, ভার্মি কম্পোস্ট একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ জৈব সার, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে সহায়তা করে। হারুয়ালছড়িতে ৪০ জন নারী নিয়ে একটি গ্রুপ গঠন করা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে ১৫ থেকে ২০ জন করে নারী এই কাজে যুক্ত রয়েছেন। উৎপাদন ৫-৭ টনের বেশি হচ্ছে, অনেক সময় কেঁচোর প্রজনন বাড়লে তা আরও বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি রিং কেঁচো এবং সেপারেশন মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। নারীদের নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় রাখা হয়েছে, যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয় এবং কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলতে পারে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট একটি উন্নতমানের জৈব সার। এর ব্যবহার ফসল উৎপাদনে দ্রুত ইতিবাচক ফল দেয়। প্রাকৃতিক উপায়ে এ ধরনের সার উৎপাদন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিশেষ করে এ খাতে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে আমরা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছি। তাদের উৎসাহিত করতে কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে কোনো ধরনের প্রণোদনা প্রদান করা যায় কি না, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করব।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে মাটির গুণগত মান উন্নত হয়, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। তাই এই খাতের প্রসার টেকসই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সামগ্রিকভাবে, উষা বালার হাত ধরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন একটি সফল মডেলে পরিণত হয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকা ইনফো২৪

ঢাকা ইনফো ২৪ একটি বহুমুখী তথ্য বাতায়ন যেখানে আপনি পাবেন ব্রেকিং নিউজ, লাইফস্টাইল গাইড এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সব আপডেট। আপনার প্রতিদিনের তথ্যের চাহিদা মেটাতে আমরা আছি আপনার পাশে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।