
হান্টাভাইরাসে আক্রান্তদের সরানোর কাজ শুরু
স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফ উপকূলে নোঙর করা একটি প্রমোদতরি (ক্রুজ জাহাজ) থেকে হান্টা ভাইরাস আক্রান্ত যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। রবিবার ভোরে দ্বীপপুঞ্জের গ্রানাডিলা বন্দরের কাছে পৌঁছায় এম এস হন্ডিয়াস নামের জাহাজটি।
বার্তা সংস্থা বিবিসি বলছে, প্রায় এক মাস আগে জাহাজটিতে প্রথম এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল, যার পর থেকেই হান্টা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক এই অভিযানে যাত্রীদের ধাপে ধাপে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হবে।
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, পুরো উদ্ধার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। জাহাজে থাকা সব যাত্রী এখন পর্যন্ত উপসর্গমুক্ত রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের জাতীয়তা অনুযায়ী ভাগ করে ছোট নৌকায় করে উপকূলে আনা হবে। এরপর তেনেরিফের স্থানীয় বিমানবন্দর থেকে চার্টার ফ্লাইটে তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠানো হবে।
প্রথম ধাপে ১৪ জন স্প্যানিশ নাগরিককে নামানো হবে। এরপর নেদারল্যান্ডসের ব্যবস্থাপনায় ডাচ, গ্রিক ও জার্মান যাত্রী এবং জাহাজের কিছু ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া হবে। পরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে আরো ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। সবশেষ ফ্লাইট সোমবার অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সকাল হওয়ার পর দেখা যায়, জাহাজটি উপকূল থেকে দূরে নোঙর করে আছে এবং চারপাশে সামরিক পুলিশ টহল দিচ্ছে। একই সঙ্গে স্থলে শতাধিক যাত্রী ও ক্রুকে নিরাপদে নামানোর জন্য বড় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৭টার দিকে মেডিক্যাল টিম জাহাজে উঠে সবাইকে পরীক্ষা করে। কারো মধ্যে ভাইরাসের লক্ষণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটিকে সরাসরি তীরে ভিড়তে দেওয়া হবে না।
তেনেরিফ উপকূলে পৌঁছানোর সময় জাহাজটির চারপাশে এক নটিক্যাল মাইল এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।
যাত্রীদের মধ্যে কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তেনেরিফের ক্যান্ডেলারিয়া হাসপাতালে বিশেষ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। হাসপাতালটিতে সংক্রামক রোগ মোকাবেলার জন্য আলাদা আইসোলেশন ইউনিট, পরীক্ষা কিট এবং ভেন্টিলেটরসহ একটি বিশেষ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের প্রধান নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ মার মার্টিন বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। হান্টা ভাইরাস আগে দেখিনি। কিন্তু এটি একটি ভাইরাস এবং এর জটিলতা মোকাবেলায় আমরা প্রশিক্ষিত।’
তিনি জানান, চিকিৎসাকর্মীদের জন্য ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ সুরক্ষা পোশাক, মাস্ক ও গ্লাভস মজুদ করা হয়েছে।