পদোন্নতির দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ববি শিক্ষকদের *জিহাদ রানা, বরিশাল ব্যুরো * পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা আবারও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেছেন।
আজ সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলন শুরু করেন তারা। আন্দোলনরত শিক্ষকরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।
একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তও হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষক।
শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। আন্দোলনকারীরা রেজিস্ট্রার কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
সকাল থেকে শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। পরে তারা বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের ভাষ্য, চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এবং আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে শিক্ষকদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
তবে গত শনিবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে কোনো সমাধান না আসায় তারা আবার শাটডাউনের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে উপাচার্যকে (ভিসি) অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষকরা। প্রথমে কর্মবিরতি, পরে শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘সিন্ডিকেট সভা ইতিবাচক হয়েছে। তারপরও তারা আন্দোলন ডাক দিয়েছে।
তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান এবং শিক্ষকদের ক্লাস ও পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। চলমান শাটডাউনের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।