নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোর্নো অঙ্গরাজ্যের আসকিরা-উবা এলাকায় একটি স্কুলে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বহু শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছে বন্দুকধারীরা।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে মুসা প্রাইমারি ও জুনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে এই ঘটনা ঘটে, যখন ক্লাস চলছিল।
স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে এসে স্কুলে ঢুকে কিছু শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক নিয়ে যায়। কিছু শিক্ষার্থী পাশের ঝোপঝাড়ে পালাতে সক্ষম হলেও অনেককে অপহরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় আইনপ্রণেতা মিদালা উসমান বালামি ঘটনাটি ‘হৃদয়বিদারক’ উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামীণ অঞ্চলে সরকারের উপস্থিতি দুর্বল হওয়ায় নাইজেরিয়ায় অপহরণ ও হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে কোগি অঙ্গরাজ্যের রাজধানী লোকোজার একটি এতিমখানাও একইভাবে আক্রান্ত হয়, যেখানে অন্তত ২৩ শিশু অপহরণ করা হয়েছিল।
বোর্নো ও আশপাশের রাজ্যগুলোতে সামরিক অভিযান চালানো হলেও স্কুল ও জনপদে হামলার ঘটনা এখনও থেমে নেই, যা গ্রামীণ এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এদিকে শুক্রবার পৃথক আরেক ঘটনায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওইও অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুল থেকেও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং পুলিশ অপহরণকারীদের খুঁজতে অভিযান শুরু করেছে।
নাইজেরীয় লেখক ও সরকারি কর্মকর্তা গিম্বা কাকান্দা আল জাজিরাকে বলেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বিস্তারের পেছনে রয়েছে দুর্বল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, দারিদ্র্য, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং স্থানীয় জনগণের আস্থার সংকট। এসব কারণে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সহজেই সদস্য সংগ্রহ ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে।
কুশল/সাএ