সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেছেন, “কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বোরো ফসল রক্ষায় হাওরের বেড়িবাঁধে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি বাঁধের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।”
শুক্রবার দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলার হালি ও পাগনার হাওরের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্ট পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে এই দুই হাওরের নিচু এলাকার বোরো জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, হালি ও পাগনার হাওরের নিচু জমি থেকে পানি সরাতে কৃষকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেচ পাম্প (সেলু মেশিন) বসিয়েছেন। কৃষকদের এই সাহসী উদ্যোগের প্রতি সংহতি জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, “আপনারা ফসল বাঁচাতে যে পরিশ্রম করছেন, আমি তার সাথে একমত। সরকার আপনাদের পাশে আছে। আর্থিক সহযোগিতাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হবে।”
তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পল্লী বিদ্যুতের এজিএম-কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, বিএডিসির সেচ পাম্পগুলো যেন অবিলম্বে সচল করা হয়। এতে করে জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসন হবে এবং কৃষকের সোনালী ফসল রক্ষা পাবে।
হাওরের জলাবদ্ধতা সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করতে গিয়ে কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে হাওর এলাকার খাল ও বিলগুলো খনন না করায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা কেবল সাময়িক সমাধান নয়, বরং স্থায়ীভাবে কাজ করতে চাই। আগামীতে বড় পরিসরে খাল-বিল খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে যাতে কৃষকদের প্রতি বছর এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।”
সংসদ সদস্য এদিন হালির হাওরের লাতলা স্লুইসগেট ও লেংটার খাড়া এবং পাগনার হাওরের গজারিয়া স্লুইসগেট ও পাঠামারার খাল এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুশফিকীন নূর এবং পাউবোর উপসহকারি প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জনি, পাউবোর বোর্ড সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নূরুল হক আফিন্দী, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. শফিকুর রহমান, ১ম যুগ্ম আহবায়ক মো. আব্দুল মালিক, যুগ্ম আহবায়ক মাছুম মাহমুদ তালুকদার, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষকদলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ কৃষকরা।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সাহস হারানো না অনুরোধ জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকির আশ্বাস দিয়ে তিনি এলাকা ত্যাগ করেন।
