নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেছেন, গুনাহের দ্বারা মানুষের ক্বলব অপরিষ্কার হয়ে গেলে সে মানুষ দিনদিন গর্হিত কাজে ধাবিত হয়।
কিন্তু যারা তাকওয় বা আল্লাহভীতি অর্জন করে কলব পরিচ্ছন্ন করতে পারে, তাদের দ্বার গুনাহের কাজ প্রকাশ হওয়া প্রায় অসম্ভব। সুতরাং তাকওয়া অর্জন ছাড়া দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তির অন্য কোনো পন্থা নেই। এজন্য আমাদের সবার অন্তর থেকে দুনিয়ার মোহাব্বত বিদায় দিয়ে আল্লাহর ভয় পয়দা করতে হবে। চরমোনাই মাহফিলের দ্বিতীয় দিনের মূল বয়ানে উপরোক্ত কথা বলেন শায়খে চরমোনাই।
শায়খে চরমোনাই বলেন, আমরা দুনিয়াতে ভালো থাকার জন্য অনেক কিছুই করি। সন্তানের ভবিষ্যৎ বিনির্মানে কত কিছুই করি। কিন্তু যারা প্রকৃত বুদ্ধিমান, তারা অনন্তকালে ভালো থাকার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ক্ষনস্থায়ী দুনিয়ার মোহে চিরস্থায়ী জগতের সুখ-শান্তি ধ্বংস করে না। সুতরাং প্রত্যেক মানুষকে পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেয়া দরকার।
শায়খে চরমোনাই তার বয়ানে চরমোনাইতে আসা সকল মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে নামাজের জামাত তরক না করার পরামর্শ দেন। বেশি করে জিকির তথা আল্লাহকে স্মরণ করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তরিকার মুরীদদেরকে সাপ্তাহিক হালকায়ে জিকির, মাসিক ইজতেমা, ৫ ঔষধ ও ৩ সবক (আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনে বিশেষ কিছু আমল) এর ওপর আমল করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিল ময়দানে আজ আরও বয়ান পেশ করেন মরহুম শায়খ সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. এর সুযোগ্য সাহেবজাদা মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, শায়েখ রহ. এর সুযোগ্য খলীফা মাওলানা সেকান্দার আলী সিদ্দিকী পীর সাহেব কাঠীপাড়া, আল্লামা জাফর আহমাদ পীর সাহেব ঢালকানগর-ঢাকা, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতী রেজাউল করীম আবরার সহ দেশবরেণ্য ওলামা মাশায়েখগণ।
উল্লেখ্য, ৪ এপ্রিল শনিবার সকাল ৮টায় আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে চরমোনাই মাহফিল। শুক্রবার দেশের সর্ববৃহৎ জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হবে চরমোনাই ময়দানে। এদিন জুমায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত বিশেষত দক্ষিণাঞ্চল থেকে হাজার হাজার লোকের ঢল নামতে চরমোনাইতে।
