ইরানকে ঘিরে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প-এর এক রহস্যময় ও উদ্বেগজনক সামাজিকমাধ্যম পোস্ট ঘিরে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ট্রুথ সোস্যাল অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই বার্তায় ট্রাম্প ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় লিখেছেন, “একটি পুরো সভ্যতা আজ রাতেই ধ্বংস হয়ে যাবে, আর কখনোই ফিরে আসবে না। আমি এটা চাই না, কিন্তু সম্ভবত তাই-ই ঘটবে। তবে এখন যেহেতু সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত শাসন পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) হয়েছে, যেখানে ভিন্ন, আরও বুদ্ধিমান এবং কম চরমপন্থী মনোভাবের মানুষ প্রাধান্য পাচ্ছে, হয়তো বিপ্লবাত্মকভাবে চমৎকার কিছু ঘটতে পারে—কে জানে? আমরা তা আজ রাতেই জানতে পারব, যা বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি। ৪৭ বছরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর অবসান অবশেষে ঘটবে। মহান ইরানের জনগণকে ঈশ্বর আশীর্বাদ করুন!” মাধ্যমে নতুন ও কম চরমপন্থী নেতৃত্বের উত্থান ঘটতে পারে।

তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকের মতে, “আজ রাতেই” এবং “সভ্যতার ধ্বংস”–এর মতো শব্দচয়ন ইরানকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত বহন করছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে গেলে পারমাণবিক বা অন্যান্য ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি সংস্থা বা প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। নিরাপত্তা উদ্বেগে বিদেশি কর্মীরা ধাপে ধাপে দেশটির বিভিন্ন কেন্দ্র ত্যাগ করছেন। সর্বশেষ বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে ১৭৫ জন রুশ কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা আর্মেনিয়ার নুরদুজ-আগারাক সীমান্ত দিয়ে দেশ ত্যাগ করে বিশেষ ফ্লাইটে মস্কোর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহায়তা করায় আর্মেনিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে মস্কো। চলমান উত্তেজনার মধ্যে এখন পর্যন্ত আর্মেনিয়ার মাধ্যমে মোট ৫০৯ জন রুশ নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
রোসাটমের প্রধান অ্যালেক্সেই লিখাচেভ জানিয়েছেন, বুশেহরে কর্মরত অধিকাংশ রুশ নাগরিককে ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বাকি কর্মীদেরও দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে পৃথক এক মন্তব্যে ডোলান্ড ট্রাম্প বলেছেন, সুযোগ পেলে তিনি ইরানের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিতে চান। তবে মার্কিন জনগণ যুদ্ধের অবসান চায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য বাস্তব কোনো সামরিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস, নাকি কেবল রাজনৈতিক বার্তা—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে পরিস্থিতি ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, এবং আজকের রাতকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
