ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে—এমন অভিযোগের কারণে তুলে যেকোনো মুহূর্তে ‘পূর্ণমাত্রার প্রতিরক্ষা’ শুরু করতে পারে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) Press TV-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ব এখন দেখছে কীভাবে একটি ভঙ্গুর ও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে ইসরায়েল।
তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের মাধ্যমে ইসরায়েল একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চুক্তির মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে লেবাননে হামলা চালানোসহ ইরানের ওপরও আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
ওই কর্মকর্তা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আগ্রাসী এই শাসনকে তার জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়লে এর সম্পূর্ণ দায় ইসরায়েলকে নিতে হবে এবং ইরান “আগ্রাসীকে শাস্তি দেবে।”
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার পর যে স্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে।
এর আগে বুধবারই ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ৪০ দিনব্যাপী সংঘাতের পর “ঐতিহাসিক বিজয়” দাবি করে। তারা জানায়, ওয়াশিংটন ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
প্রস্তাবের অন্যতম শর্ত ছিল—লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধ করা।
তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে রাজধানী বৈরুতে, ব্যাপক হামলা চালায়। এতে শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হন।
খবরে বলা হয়, মাত্র ১০ মিনিটে অন্তত ১০০টি বিমান হামলা চালানো হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈরুতেই অন্তত ৮৮ জন নিহত হয়েছেন।
এটি মার্চের শুরুতে লেবাননে নতুন করে হামলা শুরুর পর সবচেয়ে বড় ইসরায়েলি বিমান হামলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের সঙ্গেও সমান্তরালভাবে চলছে।
