সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন কয়েক হাজার কৃষক।
‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভ থেকে বাঁধের কাজে লুটপাটকারীদের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ফসল বীমা চালুর জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র ট্রাফিক পয়েন্টে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা কৃষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ কৃষকদের স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। তাদের অভিযোগ, পাউবো এবং জেলা প্রশাসনের যোগসাজশে বাঁধের নামে সরকারি অর্থের অপচয় ও লুটপাট চলছে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের প্রাক-জরিপ (Pre-work) এবং পরবর্তী জরিপে (Post-work) ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে অর্থ আত্মসাৎ এবং গত বছরের অক্ষত বাঁধে নতুন করে বিপুল বরাদ্দ দেখিয়ে টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন তারা। বক্তারা বলেন, “পাউবো ও জেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রতিবছর কৃষকের ঘাম ঝরানো বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়ছে।”
বিক্ষোভ শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। তাদের সাত দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বাঁধের কাজে নীতিমালার বাইরে গিয়ে অনুমোদন প্রদানকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা,’কাবিটা’ (কাজের বিনিময়ে টাকা) নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে (পিআইসি) রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে প্রকৃত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করা, বাঁধ নির্মাণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু ও অকাল বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অবিলম্বে ‘ফসল বীমা’ কার্যকর করা।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, “আমরা আর কতকাল দুর্নীতির বলি হবো? আমাদের পাহারাদাররাই এখন ভক্ষক হয়ে দাঁড়িয়েছে।” সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, “বাঁধের কাজে দুর্নীতি মানেই কৃষকের পেটে লাথি মারা। তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল, কুদরত পাশা, আবু সাঈদসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রতিনিধিগণ।
