সাভারের আশুলিয়ায় এক শিশু গৃহকর্মীকে নৃশংস নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (DWEAB)।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নির্যাতনের শিকার দশ বছরের শিশু সামিয়া আক্তার পাবনা জেলার আমিনপুর থানার সিন্দুরীয়া গ্রামের রজব আলীর মেয়ে। সে গত ১১ মাস ধরে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ডা. জাহিদুল ইসলামের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল। গত শনিবার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার আশিক ভিলা থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসককে পুলিশ আটক করে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়া থানার স্মৃতিসৌধ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ ঢাকায় নারী উন্নয়ন শক্তি (NUS)-এর সভাকক্ষে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন DWEAB-এর সভাপতি ও নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত শিশুরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমজীবী অংশ। তাদের ওপর সহিংসতা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, জবাবদিহিতার ঘাটতি ও সামাজিক উদাসীনতার ফল। তিনি বলেন, একটি শিশু তার শৈশব হারিয়ে অন্যের ঘরে শ্রম দিচ্ছে—এ বাস্তবতাই আমাদের সামাজিক ব্যর্থতার প্রতীক; সেখানে যদি নিরাপত্তার বদলে নির্যাতন নেমে আসে, তবে তা কেবল আইনভঙ্গ নয়, মানবতার চরম অবমাননা। তিনি অবিলম্বে নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত, চিকিৎসা ব্যয়ের সম্পূর্ণ দায়ভার রাষ্ট্র ও অভিযুক্ত পক্ষের বহন, ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপদ পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থার দাবি জানান।
DWEAB-এর সেক্রেটারি জেনারেল নাসিমা হক বলেন, গৃহকর্মী শিশুদের সুরক্ষায় নিয়োগকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও অভিযোগ গ্রহণের স্থানীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পক্ষে ডঃ সুলতান মোহাম্মদ রাজ্জাক বলেন, বিদ্যমান শিশু সুরক্ষা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (FCHD)-এর সভাপতি শাহেদা ওয়াহাব বলেন, গৃহকর্মে শিশু নিয়োগের প্রথা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা ও কমিউনিটি নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট, রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট (YWDRC)-এর পক্ষে নুসরাত সুলতানা আফরোজ বলেন, নির্যাতিত শিশুর চিকিৎসা, মনোসামাজিক সহায়তা ও শিক্ষায় পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
নারী উন্নয়ন শক্তির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সেলিনা খাতুন, প্রচার সম্পাদক ডিডাব্লিউইএবি সহ আরো অনেকে।
প্রতিবাদ সভা থেকে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করা হয়:
১. আশুলিয়ার শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত সকল প্রকৃত দোষীর দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
২. ভুক্তভোগী সামিয়া আক্তারের পূর্ণ চিকিৎসা, মনোসামাজিক সহায়তা ও নিরাপদ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
৩. শিশু গৃহকর্মী সুরক্ষা-সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ ও নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা।
৪. গৃহস্থালি কর্মক্ষেত্রে শিশু সুরক্ষা মানদণ্ড প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
৫. ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সুরক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা কার্যকর করা।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, শিশুদের ওপর সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
