ঢাকা বন বিভাগের শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে বাগান সৃজনে অনিয়মসহ অবৈধ ২১টি করাত কল থেকে উৎকোচ আদায় এবং স্থানীয় বনখেকোদের সঙ্গে আতাঁত করে বন উজারের অভিযোগ উঠেছে।
বন এরিয়ার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপনের বিধান না থাকলেও রেঞ্জ এরিয়ায় ২১ টি করাত কল অবৈধ ভাবে চলছে। যা সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে আঁতাত করেই চলছে এমন অভিযোগ উঠায় তদন্ত করে রিপোর্ট দিয়েছে দুদক। দুদকের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করা হয়েছে। রহস্য জনক কারণে প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ দেখা যায়নি । ফলে এখনও বহাল তবিয়তেই আছেন শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান। এই রেঞ্জ কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে গত তিন বছরে কয়েক কোটি টাকার বনভূমি জবরদখল, কোটি কোটি টাকা মূল্যের হাজার হাজার গাছ কেটে বন উজার করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব রোধে সারা দেশের বন বিভাগের ন্যায় সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের ২০২০-২০২১ ও ২০২৩-২০২৪ আর্থিক সালের সৃজিত বাগানের ২৪ টি বাগানের মধ্যে ২২ টি অসফল বা ব্যর্থ আর দুটি বাগানের জার্নাল এবং অধিকাংশ বাগানের চুক্তিনামাই পাওয়া যায়নি। এই মর্মে বন অধিদপ্তরের পরিক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিট বাগানের সফলতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এবাবদ বরাদ্দ ছিল প্রায় ১ কোটি টাকা।বাগান সৃজন ও পরিচর্যা না করেই রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেস প্রায় পুরো টাকাই আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় তিন বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো রেঞ্জ কর্মকর্তা বহাল তবিয়তেই থাকায় প্রশ্ন উঠেছে এই কর্মকর্তার খুঁটির জোড় কোথায়? তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি উঠেছে। এসব তথ্য বন অধিদপ্তরের পরীক্ষণ ও মনিটরিং ইউনিটের প্রতিবেদন ও দুদকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে।
বন অধিদপ্তরের পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটের বাগান জরিপ ও মনিটরিং বিষয়ে ২২.০১.০০০০.১৭৬.০৪.০৫৬.২৫.৪১৬ স্মারকে ২০২৫ সালে এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঢাকা বন বিভাগের আওতায় শ্রীপুর রেঞ্জের ২০২০-২০২১ ও ২০২৩-২০২৪ আর্থিক সালে মোট ২৪ টি বাগান সৃজন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ টির মধ্যে ২২ টিই অসফল বা ব্যর্থ আর বাকি দুটি বাগানের জার্নাল এবং অধিকাংশ বাগানের চুক্তিনামা পাওয়া যায়নি। টেকসই বন ও জীবিকা সুফল প্রকল্পের অর্থায়নে করা এসব বাগানের অসফলের রিপোর্টে বলা হয়েছে, অনেক বাগানের সাইন বোর্ড নেই, নেই পরিমান মতো গাছ ও গাছের চারা। এসব পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট ইউনিট তাদের প্রতিবেদন দাখিলের দীর্ঘ দিন পেড়িয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে এমন অভিযোগও উঠেছে।
অপর দিকে, গাজীপুর জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৬৯৩ নং স্মারকের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শ্রীপুর রেঞ্জের সাতখামাইর বিটে প্রায় ১৭ টি করাতকল পরিদর্শন করে দুদকের টিম। করাত কলগুলো দীর্ঘদিন অবৈধ ভাবে পরিচালনা করে আসছে সংশ্লিষ্টরা । এব্যাপারে করাত কল মালিক ও সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের বিটের দায়িত্ব প্রাপ্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। প্রতিটি করাত কল থেকে মাসে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেস। বিনিময়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা করাতকল গুলো চালানোর সুযোগ দিচ্ছেন মর্মে তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, গাজীপুরের দুদকের উপ পরিচালক মোজাহার আলী সরদার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান মুঠো ফোনে জানান, তিনি যে দিন এ রেঞ্জে যোগদান করেছেন তারপরের দিন তদন্ত টিম আসে। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, করাত কল উচ্ছেদ অভিযান চলছে। মামলাও করা হয়েছে। বিভাগীয় ভাবে তাকে শোকজ করা হয়ে ছিল তার জবাব তিনি দিয়েছেন। সুফল প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে তিনি জানান। যেসব বাগানে গাছ কম ছিল, সেখানে গাছ লাগানো হয়েছে। করাত কল বিষয়ে তিনি বলেন, সারা দেশেই করাত কল চলছে, এখানে তো এক দিনে হয়নি। সুযোগ সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, রেঞ্জের অনেক জায়গা উদ্ধার করে বনায়ন করতে গিয়ে তাকে হামলা মামলার শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি জানান।
