রাজধানীর পল্লবী থানা পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার করে মামলার আগেই অভিযান ! সাজানো আসামি, দোকানেই স্বর্ণ গলিয়ে দু টুকরো দু’ভাগ তদন্ত কর্মকর্তাকে ঘিরে বিস্ময়কর অভিযোগ সিসিটিভি ফুটেজেই প্রমান করতে পারে আসল চিত্র।
আইনের রক্ষক, নাকি ছদ্মবেশী লুটেরা! এই প্রশ্ন এখন জনতা ও ব্যাবসাীদের মুখে ঘুরপাক খাচ্ছে রাজধানীর পল্লবী থানা পুলিশকে ঘিরে। ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ অক্টোবর ২০২৫। থানায় এজাহারে বলা হয়েছে, রাজধানীর পল্লবী থানাধিন সেকশন ১০ ব্লক এ, লেন ১৬ বাড়ি নম্বর (২) (বিবরন উল্লেখ নাই) এর বাসায় বসবাসকারী সাবিহা মাহবুবার (২৬) বাসায় তার মায়ের রুমে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে রাখা (১৮) আঠার লক্ষ টাকা মুল্য মানের ৯ ভরি স্বর্ণের বিভিন্ন গহনা এবং নগদ ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়, শিউলী (৪৬) নামক এক গৃহকর্মী। বাদীর,নির্ধারিত ৯ ভড়ি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে ওজনে কোনো কমবেশি নাই !
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারী পল্লবী থানার মামলা নং ৬ তারিখ ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ইং প্রায় ২ দুই মাস ২৫ দিন পর স্বর্ণ ও নগদ টাকা চুরির এজাহার ! নগদ টাকা ও স্বর্ণ মিলিয়য়ে উনিশ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা চুরি হওয়ার পরও, উদ্ধারের জন্য বাদী থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন নাই। প্রকৃতপক্ষে কি চুরি হয়েছিল ? পল্লবী থানায় অভিযোগের শুরুতেই অসংগতি,কোন কোন অলংকার ছিল এজাহারে তার কোনো বিস্তারিত বর্ণনা নেই ।
প্রতিটি গহনার আলাদা ওজন বা বর্ণনা কোথায় ? স্বর্ণগুলো কি দোকানের মতো সাজানো ছিল, নাকি সাধারণভাবে রাখা ছিল ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে ? এত বড় অঙ্কের চুরির ঘটনায় এজাহারের এই অস্পষ্টতা তদন্তকে শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে । পেপে ভাজির সাথে চেতনা নাষক কিছু খাইয়ে বাদির মাকে অজ্ঞান করা হয়েছে।বাদী মায়ের চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে নেয়ার কোনো আলামত উল্লেখ নাই।
তবু্ চুরির অভিযোগের পুর্বে মামলার তদন্ত ভার গ্রহন করেন, পল্লবী থানার উপ পরিদর্শক তোহাকুল ইসলাম। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সঙ্গীয় পুলিশ সদস্য চার পাঁচ জন, এবং স্থানীয় বিতর্কিত অতি উৎসাহী সহযোগিদের মদদে,মাত্র ০৮ /১০ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করেন । প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী পুলিশের হাতে আটক হওয়ার অপেক্ষায় থাকা শিউলিকে কাফরুল থানার মিরপুর ১৩ বিআরটিএ অফিসের সামনে পাকারাস্তার উপর থেকে খোঁজে বের করেন। আসামি হিসেবে শনাক্ত করার পর আসামির বিভো মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
কি ছিলো তার ওই মোবাইল ফোনে ? বাদীর বাড়ির ড্রয়ার থেকে স্বর্ণ চুরির চিত্র,বা প্রভা জুয়েলার্সে স্বর্ণ বিক্রয়ের বিডিও ফুটেজ? তাও নয় ! আসামির জবানবন্দি গ্রহন, চুরি যাওয়া স্বর্ণ উদ্ধার !
প্রভা জুয়েলার্সের সুকেসের পিছনে দাড়িয় গ্রাহক সেবা প্রদান,ক্রয় বিক্রয় ও দায়িত্ব পালনকারী ম্যানেজার প্রকাশ বাবুকে পুলিশ তদন্তে উল্লেখ করেনি, স্বর্ণ গলানো টুকরা করা আদান প্রদান তার হাতে হয়েছে।
গ্লাস পার্টিসনের ভিতরে স্বর্ণের গয়না তৈরির কারিগর,নাদিমকে শনাক্ত করা হয়েছে চোরাই স্বর্ণের ক্রেতা হিসেবে। প্রভা জুয়েলার্সে দুটি লোহার সিন্দুক থাকার পরও পুলিশের ভাষ্য স্বীকারোক্তিতে খয়েরী রঙের মোটা শক্ত কাগজের বাক্স থেকে গলানো স্বর্ণের টুকরো উদ্ধার করা হয়েছে! মামলা তদন্তে কল্পকাহিনি ও সাজানো নাটক মঞ্চস্ত করা হয়েছে।
রাজধানীর আদাবর বাজারের প্রভা জুয়েলার্স থেকে চোরাই স্বর্ণ উদ্ধারের নামে ১২ ভরি স্বর্ণ গলিয়ে আত্মসাতের রহস্যঘেরা অভিযোগ পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক তোহাকুল ইসলাম, তার সঙ্গীয় পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় বিতর্কিত ব্যক্তি মসুম বাবুলসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ বলছে দোকানের সুকেসে থাকা ২২ ক্যারেট মানের বিভিন্ন ওজনের স্বর্ণের চেইন পুলিশ জোরপূর্বক ম্যানেজারকে দিয়ে আগুনে গলিয়ে পিণ্ড বানানিয়ে নেয়। পরে ‘উদ্ধার’ দেখানোর নামে একটি অংশ কেটে আলাদা করা হয় । যার ওজন ৮ ভড়ি ১ এক আনা ২ রতি ৫ পয়েন্ট। দ্বিতীয়টি ৩ তিন ভড়ি ১৪ চৌদ্দ আনা ৩ রতি পাঁচ পয়েন্ট। স্বর্ণের অপর এক টুকরো রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায় । উদ্ধার স্বর্ণের জব্দ তালিকা ঘটনাস্থলে সৃজন করা হয় নাই । উপস্থিত প্রভা জুয়েলার্সে ম্যনেজারকে সিজার লিস্টের প্রমান পত্র দেওয়া হয় নাই।
পুলিশের স্বর্ণ উদ্ধার অভিযানের সময় সাংবাদিক উপস্থিত হলে তাদের গোপনীয়তা রক্ষায় প্রভা জুয়েলার্সের ভেতর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পুলিশ প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেন,বাদি সম্পুর্ন অলংকার উপহার পেয়েছেন ! অর্থাৎ তার গহনার মালিকানার কোন মেমো বা প্রমান পত্র নাই । তবে ওজন নির্ধারিত হয় কিভাবে ? হিন স্বার্থ হাসিলে সহজ যুক্তি দাড় করিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা তোহাকুল ইসলাম। পুলিশের মদদে বাদি ও সঙ্ঘবদ্ধ প্রতারক চক্র আইনি মারপেচে সত্যকে আড়াল করে আদালতের চোখে ধুলো দিয়ে স্বর্ণের টুকরো বাদীর হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রভা জুয়েলার্সের মালিক আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
পল্লবী থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক তোহাকুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য, প্রতারক চক্রের সদস্যদের নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাকে সাজানো মামলায় জড়িয়ে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছেন। উপ পরিদর্শক তোহাকুল ইসলামের আইন বহির্ভুত কার্যকলাপ ও তদন্তের নামে হাতিয়ে নেয়া ১২ ভড়ি স্বর্ণ উদ্ধার ও হয়রানি মুলক মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে পুলিশ মহা পরিদর্শক বরাবর
পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে একটি অভিযোগ করেছেন। আনোয়ার হোসেন এর এমন অভিযোগের বিষয়ে মোঠো ফোনে জানতে চাইলে উপ পরিদর্শক তোহাকুল ইসলাম বলেন, আমার উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলেন।
আমি কিছু বলতে পারবো না। হোয়াটসঅ্যাপ খুদেবার্তায় এক টুকরা জব্দ। কোর্ট জমা দু টুকরো কি ভাবে হয়েছে ? তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা আদাবর বাজারে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন ।
