ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় অবৈধভাবে জ্বালানি বিক্রির সময় ২ হাজার ২০০ লিটার জ্বালানিসহ ট্যাঙ্ক লড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। একই সাথে ক্রেতা ট্যাঙ্কের চালক-সহকারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জ্বালানি ক্রেতা ফুলবাড়িয়ার উসমান আলী, সিরাজগঞ্জ জেলার লড়ির চালক সোহেল রানা (৪০) ও চালকের সহকারি হৃদয় আহমেদ (২৩)।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামির প্রত্যেককে ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এর আগে (৩০ ডিসেম্বর) রাতে ফুলবাড়িয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন বাদি হয়ে গ্রেপ্তার তিন জনের নামে ও অজ্ঞাতনাম ২/৩ জনকে আসামি করেন।
এসআই শামীম হোসেন বলেন, বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি যে, উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের শিবগঞ্জের হাটখালি বাজার এলাকায় লড়ি থেকে জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে, এমন খবর পেয়ে সাথে সাথে ওই বাজারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় উসমান আলী, লড়ির চালক ও সহকারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় ট্যাঙ্কলড়িতে থাকা ২ হাজার ২০০ লিটার জ্বালানিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসা চালক ও সহকারি জানায়, তারা সিরাজগঞ্জ থেকে জ্বালানি মুক্তাগাছার সেভেন স্টার ফিলিং স্টেশনে দেয়ার জন্য এসেছিল। সেখানে জ্বালানি না দিয়ে অবৈধভাবে ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের শিবগঞ্জের হাটখালি বাজারের উসমান মিয়ার কাছে অবৈধভাবে বিক্রি করছিলেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার চালক ও সহকারির কাছ থেকে জ্বালানির একটি স্লিপ পাওয়া গেছে। ওই স্লিপে সেভেন স্টার ফিলিং স্টেশন নাম উল্লেখ্য করা আছে। তবে, ফিলিং স্টেশনের কোন ঠিকানা দেয়া ছিল না। মুক্তাগাছার সত্রাশিয়া বাজারে সেভেন স্টার ফিলিং স্টেশন আছে। তবে, এ ঘটনার সাথে ওই ফিলিং স্টেশনের কোন যোগসুত্র আছে কিনা জানা নেই।
স্থানীয় একটি সুত্রের দাবি, পুটিজানা ইউনিয়নের শিবগঞ্জ হাটখালি বাজারে সোহেল মিয়া খুচরা জ্বালানি বিক্রি করেন। তার সরকারি এনওসি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন পাম্পের সাথে যোগসাজস করে রাতের আধারে অধিক দামে জ্বালানি বিক্রি করেন। তবে, দিনের বেলায় তিনি দোকান বন্ধ রাখেন। ২ হাজার ২০০ লিটার জ্বালানি জব্দের সাথে তার সম্পৃক্তা রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল মিয়া বলেন, আমার এনওসি আছে এবং ৩০০ লিটার জ্বালানি মজুদ করে বিক্রির অনুমোদন আছে। তবে, এই সঙ্কট মুহৃর্তে জ্বালানি না পেয়ে আমার প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি।
এসআই শামীম হোসেন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে মামলা দিয়েছি। তাদের আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠিয়েছি। এই ঘটনার আরও বেশ কয়েকজন জড়িত আছে। যারা ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পালিয়ে গেছে। তদন্ত করে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। আসামিদের আদালতে তুলা হলে বিচারক রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কুশল/সাএ
