প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র তাপপ্রবাহ চলার পরে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন কৃষকরা।
জানা যায়, সারা দেশের মতো পাবনার বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবাদকৃত উঠতি বোরো ধানসহ,চিনাবাদাম, তিল, পাট ও বিভিন্ন সবজি জাতীয় ফসলের গাছ যখন তীব্র খরায় রোদে পুরে বিনষ্ট হয়ে যাওয়াসহ গাছগুলো বিবর্ণ হয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছিল। চরাঞ্চলের অনেক কৃষক এ বছর এসব ফসলের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা প্রকাশ করেছিল। খরার কবল থেকে ফসলাদি রক্ষার্থে একটু বৃষ্টি আসায় আকাশের দিকে তাকিয়ে রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন তারা। ঠিক তার পরেই গত রোববার বিকেল থেকে আজ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কখনো থেমে আবার কখনো মুষলধারে ঝড়ো বৃষ্টি হওয়ায় চরাঞ্চল সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও চাষিদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে উঠেছে এবং সেই সাথে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ উপজেলার চরাঞ্চলে রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে কুঁকড়ে যাওয়া চিনাবাদাম সহ অন্যান্য ফসলের ক্ষেতগুলো। চরনাগদাহ্ গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা বলেন, বৃষ্টিতে চরাঞ্চলের অর্থকরী ফসল চিনাবাদাম সহ আবাদকৃত বোরো ধান, তিল, পাট ও বিভিন্ন সবজি ফসলের ব্যাপক উপকার হয়েছে।তীব্র তাপ প্রবাহ ও প্রচন্ড খরায় চিনাবাদাম সহ অন্যান্য ফসলের গাছগুলো রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে কিছু ক্ষতি সাধিত হলে ও এখন সে ফসলের জমিতে বৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। গাছগুলো উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে এতে করে ফসলের ফলন বিপর্যয়ের যে আশঙ্কা ছিল তা অনেকটা কেটে গেছে এসব অঞ্চলের মানুষের।চর সাফুল্লা গ্রামের গজনবী বলেন, তিনি গতবছর ৫ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছিলেন, ফলন ভালো হওয়ায় বিঘা প্রতি ৭ মণ করে চিনাবাদাম পেয়েছিলেন। সব মিলিয়ে গতবার তিনি খরচ খরচা বাদ দিয়ে চিনাবাদাম চাষে ১লাখ টাকা লাভবান হয়েছিলেন।
এ বছর তিনি ১০ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছে। কোনোরকম প্রাকৃতিক দূর্যোগে না হলে এবারও তিনি প্রায় ২ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। যা দিয়ে ছেলে মেয়ের পড়াশোনার খরচ সহ সারাবছরের সাংসারিক চাহিদা মেটাতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১৫৬৫ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম চাষ হয়েছে।এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর বলেন, বলেন চিনাবাদাম চরাঞ্চলের মানুষের অর্থকারি ফসল। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় চর এলাকার মানুষ চিনাবাদাম চাষে বেশি মনযোগী।প্রাকৃতিক দূর্যোগের উপর কারও হাত নেই। বিগত কয়েকদিনের খরায় কৃষকের চিনাবাদামের ক্ষেত যে পরিমাণ রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। আশা করা যায় চারদিনের বৃষ্টিতে তাঁদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যাবে। তাই চরাঞ্চল সহ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় আবাদকৃত চিনাবাদাম সহ অন্যন্য ফসলাদির ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।
