দেশের সেতু, সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র, নগর অবকাঠামো থেকে শুরু করে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের প্রতিটি স্তম্ভে রয়েছে প্রকৌশলীদের অবদান।
সেই অবদান ও পেশাগত নেতৃত্বকে স্মরণ করে বৃহস্পতিবার উদযাপিত হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’। রাজধানীর রমনায় আইইবি সদর দপ্তরে দিনব্যাপী আয়োজনে অংশ নেন সরকার, প্রকৌশল ও বিভিন্ন পেশাজীবী অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
‘উন্নত প্রযুক্তি, উন্নত দেশ’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে প্রকৌশলীদের ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পায় আলোচনায়।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই আইইবি প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিরা। বর্ণিল সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও ব্যানারে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নবীন ও প্রবীণ প্রকৌশলীদের মিলনমেলায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও দক্ষ প্রকৌশলী তৈরির ওপর জোর দেন তাঁরা।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর পরিকল্পনা জরুরি। তিনি তরুণ প্রকৌশলীদের গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রবীণ ও নবীন প্রকৌশলীদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে আরও বড় ভূমিকা রাখতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রকৌশলীদের দায়িত্বও বাড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইইবির নেতারা বলেন, ১৯৪৮ সালের ৭ মে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি গত সাত দশকের বেশি সময় ধরে দেশের প্রকৌশলীদের পেশাগত অধিকার, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং জাতীয় উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। বর্তমানে দেশের প্রকৌশল খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রকৌশল শিক্ষা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারী অনেক তরুণ প্রকৌশলী বলেন, দেশের উন্নয়নযাত্রায় নিজেদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে তাঁরা নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণায় মনোযোগ দিতে চান।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সম্মাননা প্রদানের কর্মসূচিও ছিল। সন্ধ্যার পর পুরো আইইবি প্রাঙ্গণ পরিণত হয় প্রকৌশলীদের এক মিলনমেলায়।