ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কিশোরদের মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরআলগী ও মরিচারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে সংঘর্ষ বাড়িঘরে হামলা লুটপাট অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১৫০ জনকে আসামী করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের বটতলা বালুর ঘাটে ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে মরিচারচর ও চরআলগী গ্রামের কিশোরদের মাঝে ঝগড়ার একপর্যায়ে মারামারির হয়। এঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার দুপুরে উচাখিলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের হুকুমে মরিচারচর গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম ও তার মামা আব্দুল খালেক সরকারের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চরআলগী গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা চরআলগী গ্রামের নাজিম উদ্দিনের বাড়ীতে মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠানে সশস্র হামলা চালিয়ে রান্না করা খাবার আসবাবপত্র কুপিয়ে বিনষ্টসহ কনের স্বর্ণালঙ্কার নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়াও মোটরসাইকেল, ১৫টি বাড়ির প্রায় ৫০টি ঘর কুপিয়ে তছনছ করা হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় শতাধিক খরের গাদা। লুট করে নেওয়া নেওয়া হয় প্রায় ২৫টি গবাদি পশু ও ১০টি পানির পাম্প।
এঘটনায় চরআলগী গ্রামের খলিলুল্লাহ কানন বাদী হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে ৪১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরো ১৫০ জনকে আসামী করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল আজম জানান, সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহ (উত্তর) পুলিশ সুপার ক্রাইম আশরাফুল আলম ও গৌরিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মন্তোষ বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মরিচারচর গ্রামের শিপন মিয়া নামে এক যুবকের মৃত্যু হওয়ায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মরিচারচর গ্রামে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এঘটনায় তিনজনকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আসামীদের প্রেফতারের চেষ্ট চলছে।
কুশল/সাএ