বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে বর্তমান ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগের সুযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, এটি তার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেষ সফর।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এমনকি তুরস্কের জন্য একটি পৃথক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ পক্ষ থেকে বস্ত্রশিল্প, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইসিটি ও বেসামরিক বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তুরস্ক বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে এবং প্রত্যাবাসনের পক্ষে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। হাকান ফিদান জানান, তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে তুরস্কের বিভিন্ন মানবিক সংস্থার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
এছাড়া সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, গাজা সংকটসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতেও দুই পক্ষ আলোচনা করে। দুই দেশই আশা প্রকাশ করেছে, এই সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে আরও কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যাবে।