অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে জীবনের অন্যতম বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেছেন, ভালো কাজের জন্য মূল্য দিতে হয় জেনেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তবে সেই মূল্য যে এতটা কঠিন হবে, তা কল্পনাও করেননি।
রোববার (৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারুকী লিখেছেন, ভালো কাজের জন্য সমালোচনা ও মূল্য দিতে হতে পারে—এটা জানা ছিল। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে নানা ব্যক্তি তাকে নিয়ে মন্তব্য করছেন, তা তার কল্পনার বাইরে। তিনি দাবি করেন, যাদের অনেকেই তার সম্পর্কে মন্তব্য করছেন, তাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো সম্পর্ক ছিল না।
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকেও প্রায়ই তাকে বিভিন্ন ব্যক্তির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে ফোন করা হয়। এ পরিস্থিতিকেই তিনি ‘কাফফারা’ বা মূল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সমালোচনা ও প্রচারণার প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত মিথ্যাচার ও সমন্বিত প্রচারণাই প্রমাণ করে যে তিনি দায়িত্ব পালনে সফল হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দেশের যেকোনো সংকটময় সময়ে তিনি মানুষের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান বজায় থাকবে।
নিজের পেশাগত জীবন সম্পর্কে তিনি জানান, তার পুরো ক্যারিয়ারই বেসরকারি খাতনির্ভর। বিজ্ঞাপন ও টেলিভিশন জগতে নিজের স্বতন্ত্র কাজের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি অর্জন করেছেন। কাজ পাওয়ার জন্য কখনো কোনো সরকারের দ্বারস্থ হতে হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, কোনো সরকারের সঙ্গেই তার ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল না। সরকারি প্রকল্পে তার প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণও ছিল খুবই সীমিত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তার কাছে প্রস্তাব নিয়ে এসেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে সরকারি কাজের পরিমাণ তার মোট কাজের এক শতাংশেরও কম। একইভাবে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থার সঙ্গেও তার কাজের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত ছিল।
ফারুকীর ভাষ্য, স্বাধীনচেতা ও আপসহীন মনোভাবের কারণে বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলো সবসময় তার সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত না। এরপরও কিছু প্রতিষ্ঠানের আস্থা ও দর্শকদের সমর্থনের কারণেই তিনি পেশাগতভাবে সফল হতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেন।
স্ট্যাটাসের শেষ দিকে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিরক্তিকর ব্যাপার হইলো গাধাগুলার (প্রাণী অর্থে না) প্রোপাগান্ডার জন্য এই ফালতু বিষয়ে কথা বইলা আমার কিছু সময় সদকা দিতে হইলো।’
কুশল/সাএ