রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বড় হিজলী জুলফিকার সিদ্দিকিয়া ওয়াজেদীয়া আলিম মাদ্রাসায় শূন্য তিন পদে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ ও দুই সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা মাদ্রাসার সামনের সড়কে অবৈধ পকেট কমিটি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আ.ফ.ম. আয়াতুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক আব্দুল আউয়াল ও মো. ওয়াদুদ প্রথমে নিজেদের পছন্দের লোকজন দিয়ে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। এরপর মাদ্রাসাটির শূন্য তিন পদে গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যাতে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে সুবিধা হয়। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, শূন্য তিন পদে নিয়োগের জন্য এই তিন শিক্ষক প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা বাণিজ্য করেছেন। পরে এই নিয়োগ-বাণিজ্যের টাকার ভাগ কমিটির সদস্যদের দিতে গেলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে মাদ্রাসাটির দাতা সদস্য মো. শাজাহান আলী মোল্লা বলেন, “আমি ঢাকায় থাকাকালে জানতে পারি প্রতিষ্ঠানের শূন্য তিন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কবে, কাকে, কিভাবে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হলো আমি জানি না। হঠাৎ একদিন সহকারী শিক্ষক আব্দুল আউয়াল আমাকে ফোন করে মাদ্রাসায় নিয়ে যান। আমি গেলে আপ্যায়ন শেষে আমার পকেটে একটি খাম ঢুকিয়ে দেন। আমি জানতে চাইলে তিনি বলেন এখানে ২০ হাজার টাকা আছে আপনার অনারিয়াম, আমাদের তিনটি শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেটা।”
কমিটির আরেক সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, “আমি মসজিদের খতিব। আমি সারাদিন মসজিদে থাকি। হঠাৎ একদিন আমাকে বালিয়াকান্দি ডাকা হলো, সেখানে মাদ্রাসার সুপারসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ছিলেন। এছাড়াও এলাকার কিছু লোকজন ছিলেন। সেখান থেকে জানলাম আমরা মাদ্রাসা কমিটির সদস্য। এসময় আমাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি স্বাক্ষর নেওয়া হয়। বলা হয় মাদ্রাসায় শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর কিছুদিন পর আব্দুল আউয়াল ও ওয়াদুদ মাস্টার মসজিদে এসে আমাকে একটি খাম দিয়ে বলেন, এখানে কিছু টাকা আছে এটা আপনার অনারিয়াম। তখন আমি খামটি তাদের ফিরিয়ে দেই। তাদের উদ্দেশ্যে বলি এই নিয়োগ-বাণিজ্যের টাকা আমি খেতে পারবো না। আমরা চাই যারা নিয়োগ-বাণিজ্য করছে তাদের বিচার হোক।”
এ বিষয়ে মুঠোফোনে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল আউয়াল বলেন, “যথাযথ নিয়ম-কানুন মেনেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা ইতিমধ্যেই বেতন পেতে শুরু করেছে। স্থানীয় কিছু লোক শুরু থেকে নানা জায়গায় অভিযোগ দিয়েছে কমিটির বিরুদ্ধে, এমনকি আদালতে পর্যন্ত গিয়েছে। তারা যা পারে করুক। আমরা তো অবশ্যই আমাদের পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি করব, আপনি হলেও তাই করতেন।” কমিটির সদস্যদের টাকার খাম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এসব মিথ্যা!” মসজিদের খতিব কি মিথ্যা বলবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যে খতিব বলছে তিনি কতবার জিনা করছে জানেন!”
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আ.ফ.ম. আয়াতুল ইসলাম বলেন, “নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন হয়েছে কিনা আমি জানি না। তবে নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই নিয়োগ হয়েছে।” আপনি নিজেই কেন কমিটি বাতিল করতে রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেছিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার দিয়ে জোর করে এই আবেদন করানো হয়েছিলো।” যদিও আবেদন কপিতে তিনি লেখেন সভাপতি হিসেবে যার নাম কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে তিনি বর্তমানে দুইটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে দায়িত্বরত আছেন। আমি ভুল করে উক্ত ব্যক্তিকে আমার প্রতিষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে আবেদন করেছি।
বালিয়াকান্দি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পারমিস সুলতানা বলেন, “বড় হিজলী জুলফিকার সিদ্দিকিয়া ওয়াজেদীয়া আলিম মাদ্রাসায় বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যেই জেনেছি। এছাড়াও ওই প্রতিষ্ঠানের কমিটি ভেঙে দিতে অধ্যক্ষ নিজেই রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেছেন। তবে কিভাবে সেই কমিটির অধীনে নিয়োগ হয় আমার বোধগম্য না।”
কুশল/সাএ