কিশোরগঞ্জে অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ এর ন্যাশনাল রিপোর্ট বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনার আয়োজিত হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৩ প্রকল্প কর্তৃক আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।
সেমিনারে অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ এর ন্যাশনাল রিপোর্ট বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মহিদুল ইসলাম। এতে অন্যদের মধ্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন। সেমিনারে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) তিন ধরনের শুমারি পরিচালনা করে থাকে, যথা জনশুমারি, কৃষিশুমারি এবং অর্থনৈতিক শুমারি। ১৯৮৩ সালে প্রথম অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারি ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থনৈতিক শুমারির মূল লক্ষ্য হলো সময়ের বিবর্তনে দেশের কৃষিবহির্ভূত অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা। এছাড়াও জাতিসংঘ প্রণীত আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও প্রকাশ; জাতীয় শিল্পনীতি-২০২২ অনুযায়ী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৃহৎ, মাঝারি, ক্ষুদ্র, মাইক্রো এবং কুটির শিল্পে শ্রেণিবিন্যাস করা এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মৌলিক তথ্য সংগ্রহ করা ও সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিকল্পনা কার্যক্রম প্রণয়ন।
২০২৪ এর অর্থনৈতিক শুমারিতে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ট্যাব এবং জিপিএস লোকেশনের মাধ্যমে ডেটা সংগ্রহ করায় ভুলের পরিমাণ কম ছিল। ২০১৩-২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে বিভাগওয়ারী অন্তর্বর্তীকালীন প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল বিভাগে ৭৮.৪৫ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩.০৪ শতাংশ। দেশের অর্থনীতিতে সেবাখাতের অবদান প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সেমিনারে আলোচকগণ বলেন, টেকসই উন্নয়ন, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভরযোগ্য এবং সঠিক তথ্য-উপাত্তের বিকল্প নেই। পরিসংখ্যানের তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমেই সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র প্রকাশ পায়। পরিসংখ্যানের তথ্য-উপাত্ত যত সমৃদ্ধ হবে, গবেষণা তত উন্নত হবে, সেই মোতাবেক উন্নয়ন পরিকল্পনা তত সহজ হবে। গবেষণা ও রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমেই দেশ এগিয়ে যাবে। এজন্য সঠিকভাবে পরিসংখ্যানের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ জরুরি।
রোহান/সা.এ.