রোনালদোকে ঘিরে বিতর্ক থাকলেও পর্তুগাল আরও ঐক্যবদ্ধ

X
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
বিশ্বকাপে কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়েছে পর্তুগাল। তবে আজ মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দল আরও ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী বলে দাবি করেছেন প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। ম্যাচটা মাঠে গড়াবে রাত ১১টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস, বিটিভি ও সময় টিভি।
হিউস্টনে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মার্তিনেজ বলেছেন, সমালোচনা ও বিতর্ক দলের মনোযোগ নষ্ট করতে পারেনি। বরং বিশ্বকাপের চাপ সামলে দল আগের চেয়ে আরও ঐক্যবদ্ধ।
তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পর্তুগালকে ভাবা হচ্ছিলো অন্যতম ফেভারিট। কিন্তু প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় চাপ বেড়েছে রোনালদোদের ওপর। বিশেষ করে ৪১ বছর বয়সী অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে সমালোচনা তীব্র হয়েছে।
ম্যাচের পর মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেসের একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। তিনি বলেছিলেন, রোনালদো দলের আরেকজন খেলোয়াড়, যিনি দলকে সাহায্য করতে এখানে আছেন। প্রেক্ষাপট ছাড়া মন্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই এটিকে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকার প্রতি অসম্মান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এরপর নেভেসকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকার হতে হয়।
তবে এসব বিতর্ককে গুরুত্ব দিতে নারাজ পর্তুগাল মার্তিনেজ। তার ভাষায়, ‘এখন আমরা আরও ঐক্যবদ্ধ, আরও শক্তিশালী। আমরা বিশ্বকাপ খেলছি, তাই স্বাভাবিকভাবেই অনেক আলোচনা, অনেক চাপ থাকবে। এটা খেলারই অংশ। আমাদের পুরো মনোযোগ দলের দিকে।’
রোনালদোর পক্ষে শুরু থেকেই অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন মার্তিনেজ। বাছাইপর্বে পাঁচ গোল করা এই ফরোয়ার্ড ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর জাতীয় দলের হয়ে আর গোল পাননি। তবে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে থাকা তারকার অবদান নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে নারাজ কোচ,‘অধিনায়ক হিসেবে সে একটি উদাহরণ। সে অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে অধিনায়কের মতোই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সে দলকে সাহায্য করতে চায় এবং আমাদের দলের জন্য একটি অনুকরণীয় চরিত্র।’
রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘তার নড়াচড়া প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক তৈরি করে। পরিসংখ্যানও তার পক্ষে কথা বলে।’
ফুলব্যাক জোয়াও ক্যানসেলো স্বীকার করেছেন যে কঙ্গোর বিপক্ষে নিজেদের স্বাভাবিক মানের খেলাটা খেলতে পারেনি পর্তুগাল, ‘আমরা যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারিনি, যা আমাদের মতো দলের জন্য স্বাভাবিক নয়। আমাদের দলে বিশ্বের সেরা কয়েকজন খেলোয়াড় আছে এবং সেটা মাঠে প্রমাণ করতে হবে।’
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচকে ‘বাঁচা-মরার লড়াই’ হিসেবে দেখছেন ক্যানসেলো। আসলেই তো তাই। দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যর্থতার বৃর্থতার বৃত্ত ভাঙতে না পারলে নক আউটে ওঠার সমীকরণ কঠিন হয়ে যেতে পারে পর্তুগালের। তাই ভুলের সুযোগ নেই বলেই মনে করেন ক্যানসেলো, ‘এই ম্যাচে শুধু জয়ই গুরুত্বপূর্ণ। ভুল করার কোনো সুযোগ আমাদের নেই।’