শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ভালুকার দুই শতাধিক কিন্ডারগার্টেন, বাড়ছে শিশুদের পাঠাভ্যাস

X
ছবি: প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় আধুনিক ও মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেনগুলো শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে। উপজেলার পৌরসদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক কিন্ডারগার্টেন। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কয়েক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে শুধু ভালুকা পৌরসদরেই রয়েছে অর্ধশতাধিক কিন্ডারগার্টেন।
শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সময়োপযোগী পাঠদান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিয়মিত ক্লাস ও বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে সরকারি পাঠ্যবইও পাচ্ছে।
রফিকরাজু কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক আজিমউদ্দিন সুমন বলেন, “শিশুদের জন্য সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে অভিভাবকদের মধ্যে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, নৈতিক শিক্ষা ও সৃজনশীলতা বিকাশেও গুরুত্ব দিচ্ছি।”
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, একসময় প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সরকারি বিদ্যালয়ের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হতো। বর্তমানে এলাকার কাছাকাছি ভালো পরিবেশে কিন্ডারগার্টেন থাকায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করছেন। এতে শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসও বাড়ছে।
ভালুকা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ হাছেন আলী বলেন,“উপজেলায় কিন্ডারগার্টেনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার মান উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নিয়মিত তদারকি এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক গাইডলাইন দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নীতিমালা মেনে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
ভালুকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, “শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে। কিন্ডারগার্টেনগুলো সরকারি নিয়মনীতি মেনে পরিচালিত হলে প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতিতে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ফিরোজ হোসেন বলেন, “শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্ডারগার্টেনগুলো সরকারি নিয়মনীতি ও শিক্ষার মান বজায় রেখে পরিচালিত হলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ভালুকায় কিন্ডারগার্টেনের বিস্তার প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত শক্ত করছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান, অবকাঠামো ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।