নীলফামারীতে ১২ শিক্ষার্থীকে স্মারক বৃত্তি প্রদান
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম (ভিজিট : ০)

X
স্মারক বৃত্তি প্রদান
নীলফামারীর রামগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় বারের মতো ১২জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ‘আবু ছাইদার রহমান স্মারক বৃত্তি-২০২৫’। একই সঙ্গে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তিও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব (ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও প্রশিক্ষণ অনুবিভাগ) মো. রায়হান আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক এবং মরহুম আবু ছাইদার রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র ড. আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম নুরুল আমিন শাহ এবং রামগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ইয়াসমিন সুলতানা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মরহুম আবু ছাইদার রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও রামগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন মরহুমের আরেক পুত্র, জলঢাকা সরকারি কলেজের প্রভাষক জুলফিকার আলী।
বক্তারা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে আবু ছাইদার রহমান শুধু শিক্ষাদানেই নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আবু ছাইদার রহমান ১৯৪৫ সালে নীলফামারী মহকুমার (বর্তমান জেলা) টুপামারী ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে নীলফামারী হাইস্কুল (বর্তমানে নীলফামারী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে এসএসসি, ১৯৬৬ সালে নীলফামারী কলেজ (বর্তমানে নীলফামারী সরকারি কলেজ) থেকে এইচএসসি, ১৯৭০ সালে বিএ এবং ১৯৮২-৮৩ শিক্ষাবর্ষে রংপুর শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ১৯৬৮ সালে চওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ১৯৭০ সালে রামগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ১৯৭৪ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯১ সালের ১৬ জানুয়ারি কর্মরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন। তাঁর সন্তানরা পিতার আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষা, সততা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে পরিবারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘আবু ছাইদার রহমান স্মারক বৃত্তি’ বর্তমানে এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার একটি প্রশংসনীয় শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।