সুনামগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী হক মার্কেটে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাগা এই আগুনে ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক দাবি অনুযায়ী প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মুহূর্তের আগুনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কেটের একটি জুতার দোকান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা প্রথম নজরে আসে। দোকানে বিপুল পরিমাণ রাবার, চামড়া এবং সিন্থেটিকের জুতা মজুত থাকায় আগুন মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায় চারপাশ।
খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। আগুনের তীব্রতা দেখে তাদের সাথে যোগ দেন পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যরা। স্থানীয় সাধারণ মানুষও বালতি ভরে পানি ও বালু নিয়ে অগ্নিনির্বাপণে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সংকীর্ণ গলি এবং আগুনের তীব্রতার কারণে উদ্ধার কাজে বেশ বেগ পেতে হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস চেষ্টার পর রাত দেড়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় সম্মিলিত বাহিনী।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ব্যবসায়ীরা দ্রুত ছুটে এলেও আগুনের তীব্রতার কারণে দোকানের ভেতর থেকে কোনো মালামাল রক্ষা করতে পারেননি। চোখের সামনে নিজেদের সারা জীবনের সঞ্চয় ছাই হতে দেখে অনেক ব্যবসায়ী কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বলেন,”আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ঈদ ও সামনের সিজনের জন্য নতুন মালামাল তুলেছিলাম, এখন আমরা পথে বসে গেলাম।”
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন সেখ এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জালাল আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে ৮ থেকে ১০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।
বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ডাম্পিংয়ের কাজ (আগুন পুরোপুরি নেভানো) সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
