ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মসজিদের দীর্ঘদিনের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে বাদ দিয়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছেলেসহ অন্য দুজনের নাম উল্লেখ করে সরকারি সম্মানী ভাতার জন্য আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ হাজি বাড়ি জামে মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে ইমামতি করছেন মাওলানা মো. ইউছুফ এবং মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন সুলাইমান মৌলভি। তবে সরকারি সম্মানী ভাতার আবেদনে তাদের নাম না দিয়ে পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হান্নানের ছেলে আকবর হোসেনকে ইমাম এবং আহছান উল্লাহকে মুয়াজ্জিন হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মসজিদের মুসল্লিদের দাবি, মাওলানা মো. ইউছুফ নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ইমামতি করছেন। একইভাবে সুলাইমান মৌলভিও নিয়মিত আজানসহ মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের নেতৃত্বেই মসজিদের মুসল্লিরা নামাজ আদায় করে আসছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা হান্নান। তিনি বলেন, মুসল্লিদের সঙ্গে পরামর্শ করেই নতুন ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। যারা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন, তারা ভুয়া।
স্থানীয়রা জানান, হান্নান পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডের সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে সরকারি উদ্যোগে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই এ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এ বিষয়ে ভোলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এম. মাকসুদুর রহমান জানান, সরকারি মসজিদভিত্তিক ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সম্মানী নিশ্চিত করার কার্যক্রমের দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো অভিযোগ ইসলামিক ফাউন্ডেশনে এলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও জানান, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নিয়োগের কমিটিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মণ বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের নামের প্রস্তাব সাধারণত মসজিদ কমিটির সভাপতি দিয়ে থাকেন। অভিযোগের বিষয়টি মসজিদ কমিটির সঙ্গে কথা বলে দেখা হবে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে মসজিদে প্রকৃতপক্ষে যারা দীর্ঘদিন ধরে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের পরিচয় ও দায়িত্ব যাচাই করে সরকারি সম্মানী ভাতা নিশ্চিত করা হোক।