মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ক্ল্যাভ্যারাক এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশিসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও তার এক বছরের শিশু সন্তান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কলম্বিয়া কাউন্টির এনওয়াই ৯ এইচ সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহতরা নিউইয়র্ক সিটি থেকে সপরিবারে আলবানীতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন।
কাউন্টি শেরিফ দপ্তর জানায়, সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে দুইটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের খবর পেয়ে ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি ২০০৯ মডেলের টয়োটা প্রিয়াস উত্তরমুখী হয়ে চলার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝখানের লাইন অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা ২০২৫ মডেলের টয়োটা ক্রাউন গাড়ির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনায় প্রিয়াসের চালক নাজমুল রুবেল (২৯), তার বাবা মোহাম্মদ হেরামন (৬০) এবং বন্ধু ফাহিম হালিম (২৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই গাড়িতে থাকা ফাতিমা আক্তার (৩৩) এবং ইকরা আয়াত নামে তার এক বছরের শিশু সন্তানকে গুরুতর অবস্থায় আলবানি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
অন্যদিকে, টয়োটা ক্রাউন গাড়ির ২৪ বছর বয়সী চালক, লুকা পালভেনিয়ান, যিনি ব্রুকলিন-এর বাসিন্দা, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তবে তার সঙ্গে থাকা যাত্রী জুলিয়া রিচি (৬২), স্টকপোর্ট এর বাসিন্দা, ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর এনওয়াই ৯ এইচ সড়কের স্পুক রক রোড থেকে এনওয়াই ২৩বি পর্যন্ত অংশ রাত ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে শেরিফ জ্যাকি সালভাতোরে বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি দুর্ঘটনা। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই আশপাশের অনেক বাসিন্দা শব্দ শুনে ছুটে আসেন। উদ্ধার কাজে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও রেসকিউ ইউনিট অংশ নেয়।
এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিন বাংলাদেশির জানাজার নামাজ স্থানীয় সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) বাদ জোহর ব্রঙ্কসের বায়তুল আমান ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাদের মরদেহ মার্লবোরো মুসলিম মেমোরিয়াল সিমেট্রিতে দাফন করা হবে। নিহতরা সবাই নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে বসবাস করতেন।
