টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ গোয়ালবাড়ী খাল প্রায় তিন দশক পর পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি।
উদ্বোধন উপলক্ষে শাখারিয়া আশ্রয়ন প্রকল্প মাঠে এক কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম রুবেল, পৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম লেলিন, হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রোজ তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান। গোপালপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে খালটি পুনঃখনন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণও করা হবে। এতে প্রায় সাড়ে তিনশ অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, খালটি পুনঃখননের ফলে ভূঞাপুর-তারাকান্দি যমুনা বাঁধের শাখারিয়া স্লুইস গেটটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এতে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি সহজে খালে প্রবেশ করবে এবং শুষ্ক মৌসুমে বিলের পানি নদীতে ফিরে যেতে পারবে। হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রোজ তালুকদার জানান, সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে যমুনা নদীর বালিতে খালটি ভরাট হয়ে পড়ে, ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জসিম উদ্দীন বলেন, খালটি পুনরায় সচল হলে বর্ষাকালে যমুনার রেণুপোনা আশপাশের বিল ও জলাশয়ে প্রবেশ করবে। এতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং মৎস্যচাষে এলাকাবাসী উপকৃত হবে। এ সময় অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে এলাকায় ভূ-উপরিস্থ সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। এর মাধ্যমে রোপা আমন ও বোরো ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি খালের দখলমুক্ত রাখতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
কুশল/সাএ
