ইরান-লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলের একটি শহরে অস্বাভাবিক ঘটনায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নেতিভত-এর একটি শপিং সেন্টার এলাকা ঘিরে হাজার হাজার মৌমাছির ঝাঁক আকাশ ঢেকে ফেলে, মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শহরের জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বাইরে থাকা মানুষ যেমন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, তেমনি ঘরের ভেতরে থাকা বাসিন্দারাও উদ্বেগে পড়ে যান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের দরজা-জানালা বন্ধ রেখে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাণিজ্যিক এলাকার রাস্তা থেকে শুরু করে বাসাবাড়ির বারান্দা পর্যন্ত মৌমাছির দখলে চলে গেছে। এমনকি এ ঘটনায় ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমও বিঘ্নিত হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, একটি সামরিক বিমানের ইঞ্জিনে মৌমাছি ঢুকে পড়ায় এবং ডানায় আটকে যাওয়ায় বিমানটির উড্ডয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
ঘটনাটি ঘিরে অনলাইনে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও ধর্মীয় ব্যাখ্যাও ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ এটিকে ধর্মীয় গ্রন্থে বর্ণিত দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করছেন, আবার অনেকে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একে ‘ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ’ বলেও অভিহিত করছেন।
তবে বিজ্ঞানী ও কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, এটি কোনো অস্বাভাবিক হামলা নয়, বরং প্রাকৃতিক আচরণেরই অংশ। তাদের মতে, প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, নগরায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৌমাছিরা নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে শহরের ভবন, দেয়ালের ফাঁক বা উষ্ণ পরিবেশ বেছে নিচ্ছে।
