একটি সুপরিকল্পিত অন্ধত্বের গল্প। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো অন্যায়, অনাচার বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেই একদল মানুষের মুখস্থ স্ক্রিপ্ট হাজির হয়—"আগের ১৪ বছর প্রতিবাদ করেননি কেন?" আপনি যখনই এই তথাকথিত 'প্রশ্নকর্তা'দের প্রোফাইল ঘাটবেন, একটা অদ্ভুত মিল দেখতে পাবেন। এদের একটা বড় অংশ হয়তো দূর প্রবাসে বসে আয়েশি জীবন কাটাচ্ছেন, অথবা এরা সেই নির্দিষ্ট মতাদর্শের অন্ধ অনুসারী, যাদের কাছে দেশের মানুষের দুর্ভোগের চেয়ে নিজেদের দলীয় এজেন্ডা বড়।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই একটা কমন কমেন্ট দিয়ে তারা আসলে কী বোঝাতে চায়? এরা কি সত্যিই চায় না সমাজের এই অন্যায়গুলো বন্ধ হোক?
১. এটি একটি সুকৌশলী 'হোয়াটএবাউটিজম' (Whataboutism):
যখন কেউ বর্তমানের কোনো অন্যায়ের জবাব দিতে পারে না, তখন সে অতীতকে টেনে এনে বর্তমানের অপরাধকে হালাল করার চেষ্টা করে। এটি মূলত নিজেদের ব্যর্থতা বা প্রিয় দলের অপকর্মকে আড়াল করার একটা সস্তা ঢাল।
২. অন্যায়ের স্বাভাবিকীকরণ: তাদের যুক্তিটা অনেকটা এরকম—"যেহেতু অতীতে অন্যায় হয়েছে, তাই এখনো অন্যায় হলে তোমাদের মুখ বুজে সহ্য করতে হবে।" তারা সমাজ সংস্কারক নয়, তারা চায় অন্যায়ের একচেটিয়া ধারাবাহিকতা।
৩. ভুক্তভোগীদের সাথে চরম নির্মমতা: আজ যে ব্যক্তি সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি, বা প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন, তিনি আপনার-আমারই কোনো না কোনো আত্মীয়, ভাই বা বন্ধু। এই প্রবাসে থাকা বা অন্ধ মোহে বুঁদ হওয়া দলটির গায়ে সেই কষ্টের আঁচ লাগে না। তাই তারা ভুক্তভোগীর আর্তনাদকে রাজনৈতিক রং দিতে দ্বিধা করে না। এদের লাভটা কী?
লাভটা খুব সহজ—দলকানা মানসিকতা এবং ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী হওয়া। সমাজ যতকাল অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অতীতে আটকে থাকবে, ততকাল বর্তমানের অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে। আর এটাই এদের মূল উদ্দেশ্য।
অন্যায়ের কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ (Expiry Date) হয় না। অতীত অন্যায় ছিল বলেই বর্তমানের অন্যায়কে মেনে নিতে হবে—এই দাসত্ব মানসিকতা থেকে বের হতে না পারলে সমাজ কখনোই বদলাবে না। প্রতিবাদ যেকোনো সময়ে, যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধেই হওয়া উচিত।
লেখক : গোলাম কবীর কানাডা বিজনেস কনসালটেন্ট, ফাইনানসিয়াল প্ল্যানার ও মর্টগেজ এজেন্ট, টরন্টো, কানাডা।