বুধবার , ৭ অক্টোবর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ৯০০ স্কুল বন্ধ


অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনের জেরে দেশটির প্রায় ৯০০ হাইস্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাজধানী প্যারিসসহ মার্সেই, নিস, নান্তেস, স্ট্রাসবুর্গ, লিওঁ ও রেঁনে শহরে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা হাইস্কুল অবরোধ করে ক্লাস বর্জন করেন। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ ভবন এবং নিম্নমানের শিক্ষার পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা তৈরি করছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি বা বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ, মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাড়ানো, স্কুলের দৈনিক সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও অর্থ বরাদ্দ।

কর্তৃপক্ষের হিসাবে, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে আয়োজকদের দাবি, শিক্ষার্থী ও কর্মী মিলিয়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ। একটি হাইস্কুল শিক্ষার্থী ইউনিয়নের হিসাবে, প্রায় ২ হাজার হাইস্কুল অবরোধ করা হয়েছিল অথবা ওই দিন বন্ধ ছিল।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিস অঞ্চলের একটি হাইস্কুল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। গত কয়েক সপ্তাহে ক্লাস বর্জন ও স্কুল অবরোধের ঘটনায় ৬ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

মঙ্গলবার কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। স্ট্রাসবুর্গ, লিওঁ ও রেঁনে শহরে কিছু বিক্ষোভকারী আগুন জ্বালানোর পাশাপাশি পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে দেন। প্যারিসের কয়েকটি এলাকাতেও ময়লার পাত্র দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে আগুন ধরানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

পূর্ব প্যারিসের প্লাস দে লা নেশন এলাকায়ও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট, বোতলসহ বিভিন্ন বস্তু মোকাবিলায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম নিয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে যান।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও ২১৫ জন কিশোর আহত হয়েছেন। সোমবার পুলিশের ব্যবহৃত একটি স্টান গ্রেনেডের ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

ফরাসি বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভের ঘটনায় ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে এসব মামলায় কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, দেশের অনেক স্কুলের অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক। প্যারিসের এক বিক্ষোভকারী জুলিয়েট আইমার্ডের অভিযোগ, কিছু স্কুলে ইঁদুরের উপদ্রব, পানি জমে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও ছত্রাকের সমস্যা রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত হিটিং বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নেই।

অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সংগঠনগুলো। তবে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই পুলিশের প্রতিক্রিয়া যথাযথ ছিল।

বিক্ষোভের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে কাজ করতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু। অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্কুলের সময়সূচি পর্যালোচনা এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসের শেষ নাগাদ এসব বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের বিষয়টিও সরকার পর্যালোচনা করবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});