বিশ্ব নদী দিবসেও বর্জ্যের ভারে জর্জরিত গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঐতিহ্যবাহী বানার নদ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য নিয়মিত ফেলা হচ্ছে নদটির কাপাসিয়া বাজার খেয়াঘাট এলাকায়। এতে নদপাড় পরিণত হয়েছে অঘোষিত ভাগাড়ে। বর্জ্যের স্তূপে সংকুচিত হয়ে পড়েছে খেয়াঘাটের চলাচলের পথ, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। একই সঙ্গে অপচনশীল বর্জ্য গিয়ে পড়ছে নদে। অথচ খেয়াঘাট থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রটি প্রায় দুই বছর ধরে অকার্যকর।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, কাপাসিয়া বাজার খেয়াঘাটের বিভিন্ন স্থানে পচা-দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্যের বড় বড় স্তূপ। বাজারের ময়লা, পলিথিন, সবজি ও অন্যান্য বর্জ্য জমে রয়েছে নদপাড়জুড়ে। দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করছেন পথচারীরা। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে জানান স্থানীয়রা।
কাপাসিয়া উপজেলার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও উপজেলা সদরের বিভিন্ন দোকান থেকে প্রতিদিনের বর্জ্যের একটি অংশ এখানে ফেলা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বর্জ্য ফেলায় নদপাড়ের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদটির স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ চলাচল করেন। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত ঘাটটি ব্যবহার করে। পাশাপাশি পাশেই রয়েছে কাঁচাবাজার। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের কিছু সবজি বিক্রেতা বর্জ্যমিশ্রিত নদীর পানিতেই সবজি ধুয়ে থাকেন। এতে জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অথচ নদীর পাড়েই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্থাপনা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে নির্মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, উদ্বোধনের পর কিছুদিন কার্যক্রম চললেও ২০২৪ সাল থেকে কেন্দ্রটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। খেয়াঘাটের মাঝি শ্রী সুধাস চন্দ্র মনিদাস বলেন, “আমরা কারে কইয়াম। আমরার কথা কেউ হুনবো। মানুষের যে কষ্ট আইতাছে, এইজন্য কারো কিছু যায়-আসে না।” অপর মাঝি মো. আসাদুল্লাহ বলেন, “কিছু করার নাই। বহুদিন ধইরা ভোগতাছি। এহন আর আমগর বলার কিছু নাই। সহ্য হয়ে গেছে।”
বাজারের ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ক্ষমতায় অনেকে এসেছে-গেছে, কিন্তু তারা এই বর্জ্য নিয়ে ভাবেনি, কোনো কাজ করেনি। এখন নতুন সরকার যদি এই বিষয় নিয়ে কাজ না করে, আমাদের আর বলার কিছু থাকবে না।”
নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, বানার নদীর পাড়ে নিয়মিত বর্জ্য ফেলার কারণে নদী ভরাটের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও বাড়ছে। দ্রুত নদ থেকে বর্জ্য অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, “আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট করব। নদীর পাড়ে নতুন জায়গা দেখা হচ্ছে।” বিদ্যমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র সম্পর্কে তিনি বলেন, “ওইটা অকার্যকর। লোকালয়ের মধ্যে হওয়ায় এলাকার লোকজন সমস্যা করে। আমরা নতুন জায়গা দেখছি।”