ব্রাজিল সমর্থককে এআই দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিয়ে ট্রোল, লিগ্যাল নোটিশ
X
ছবি: প্রতিনিধি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এক ব্রাজিল সমর্থকের ছবি এডিট করে তাকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিয়ে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নড়াইলে এক যুবকের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রোববার (২১ জুন) নড়াইল জজ কোর্টের আইনজীবী মো. ফেরদৌস ইসলাম তনুর মাধ্যমে ব্রাজিল সমর্থক শাহাদাত জালাল পিয়াসের পক্ষে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে অভিযুক্ত করা হয়েছে নড়াইলের আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত মো. সোহাগ ফরাজীকে।
নোটিশে বলা হয়, নোটিশদাতার বন্ধু মির্জা গালিব স্বতেজ একজন কট্টর ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থক। কিন্তু মো. সোহাগ ফরাজী তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ‘গফ ঝযড়যধম’ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ব্রাজিল সমর্থক মির্জা গালিব স্বতেজের ছবি এডিট করেন। পরে তাকে আর্জেন্টিনা দলের জার্সি পরিয়ে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক ও আপত্তিকর ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
নোটিশে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর ফলে নোটিশদাতা শাহাদাত জালাল পিয়াস ও তাঁর বন্ধু মির্জা গালিব স্বতেজের সামাজিক মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানহানির উদ্দেশ্যে এসব ছবি প্রচার করা হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে অভিযুক্ত সোহাগ ফরাজীকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে সংশ্লিষ্ট সব ছবি ও পোস্ট অপসারণের পাশাপাশি তিন দিনের মধ্যে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ব্রাজিল সমর্থক মির্জা গালিব স্বতেজ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিল দলের সমর্থক। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আমার ছবি বিকৃত করে আমাকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আমাকে আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। বিষয়টি আমার ব্যক্তিগত সম্মান ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ফুটবল সমর্থন নিয়ে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে, কিন্তু কাউকে হেয়-প্রতিপন্ন বা অপমান করার উদ্দেশ্যে ছবি বিকৃত করে প্রচার করা অনুচিত। আমি আশা করি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দ্রুত এসব আপত্তিকর ছবি ও পোস্ট সরিয়ে নিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করবেন। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহাগ ফরাজীর বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নড়াইল জজ কোর্টের আইনজীবী মো. ফেরদৌস ইসলাম তনু বলেন, “আমার মক্কেল শাহাদাত জালাল পিয়াসের পক্ষে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপত্তিকর কনটেন্ট অপসারণ এবং ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা করা না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


