আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করের বোঝা আরও ভারী হতে যাচ্ছে।
কারণ বড় ধরনের কোনো ছাড় ছাড়াই কর কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।কিন্তু ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয় বাড়েনি সাধারণ মানুষের।
প্রস্তাবিত এই কাঠামোতে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় স্থির থাকলেও, করের স্ল্যাব সাতটি থেকে কমিয়ে ছয়টিতে নামিয়ে আনা এবং প্রতিটি স্তরে করহার গড়ে ৫ শতাংশ করে বৃদ্ধি করার ফলে সাধারণ করদাতাদের পকেট থেকে আগের চেয়ে বেশি অর্থ বেরিয়ে যাবে।
উদাহরণস্বরূপ, যার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, তাকে কোনো বাড়তি আয় ছাড়াই বছরে প্রায় আড়াই হাজার টাকা বেশি কর গুনতে হবে।
এছাড়াও বিত্তবানদের জন্য বড় চমক হিসেবে আসছে ‘সম্পদ কর’, যা দলিলে উল্লিখিত মূল্যের পরিবর্তে জমির বর্তমান বাজারদর বা মৌজা দরের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে—মূলত গুলশান, বনানী বা ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকার স্থাবর সম্পত্তির ওপর এই কর ন্যায্যতার ভিত্তিতে বৈষম্য হ্রাসের লক্ষ্যে বসানো হচ্ছে।
তবে নতুন করদাতাদের ভীতি দূর করতে প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে কর দেওয়ার বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। যদিও সামগ্রিক এই কঠোর কর জালের চূড়ান্ত রূপরেখা এখন নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।
এই বাড়তি করের বোঝা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় অনেকটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।