সরকার কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে সদস্য হিসেবে কৃষিবিদ ড. মোঃ আল-মামুনকে মনোনয়ন দিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০২১-এর ২১(১)(চ) ও ২১(২) ধারা অনুযায়ী তাঁকে দুই বছরের জন্য এ মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে।
ড. মোঃ আল-মামুন বর্তমানে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। পাটজাতীয় ফসলের উন্নত জাত উদ্ভাবনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর উদ্ভাবিত উল্লেখযোগ্য জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বিজেআরআই কেনাফ-৪ (লাল কেনাফ), বিজেআরআই মেস্তা-৩ (মসৃণ মেস্তা) এবং বিজেআরআই মেস্তা-৪ (সবজি মেস্তা-২)। এসব জাত পূর্ববর্তী জাতের তুলনায় অধিক ফলনশীল, রোগ প্রতিরোধী ও কৃষকবান্ধব হওয়ায় ইতোমধ্যে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বিশেষ করে সবজি মেস্তা জাতটি সবজি হিসেবেও বাজারজাতযোগ্য হওয়ায় কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
১৯৭৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর বরগুনা জেলার বামনা উপজেলায় জন্মগ্রহণকারী ড. আল-মামুন ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মরত রয়েছেন। তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (অনার্স) ও এমএস ডিগ্রি অর্জনের পর মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া থেকে কৌলিতত্ত্ব ও প্রজনন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
একজন দক্ষ প্রজননবিদ হিসেবে তাঁর উদ্ভাবিত জাতগুলো কৃষকপর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং পাট ও পাটজাত ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি “ইয়ং সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড–২০১৯” ও “বেস্ট স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ড–২০২১”সহ দেশে-বিদেশে একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের সংখ্যা ৫৩টি এবং প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছে ৫টি। পাশাপাশি তিনি একজন নিয়মিত কলাম লেখক ও প্রাবন্ধিক হিসেবে কৃষিবিজ্ঞানভিত্তিক শতাধিক লেখা প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে তিনি নার্স সায়েন্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নার্সসাব)-এর সদস্য-সচিবসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
