পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় একটি মাছের ঘেরের লিজ ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সদর ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া চরে এ ঘটনায় এক নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি ঘেরের দখল নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘেরটি ভোগদখলে ছিল আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আলম খানের। তবে গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় একটি পক্ষ জমির মালিকানা দাবি করে ঘেরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এর মধ্যে প্রায় দুই মাস আগে আলম খান ঘেরটি এক বছরের জন্য রত্তন হাওলাদারসহ চারজনের কাছে লিজ দেন। পরে লিজগ্রহীতারা ঘের দখলে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে তারা ঘেরের দখল নিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষে জমির মালিকানা দাবি করা পক্ষের শাহ জামাল (৪৫), শেফালী বেগম (৩০), রাজ্জাক শিকদার (৬৫), রহিম খান (৫৫) ও ওহাব মাতুব্বর (৫০) আহত হন। অন্যদিকে লিজগ্রহীতা পক্ষের রত্তন হাওলাদার (৫৫) ও মোখলেছুর রহমান (৪৫) আহত হয়েছেন।
আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জমির মালিকানা দাবি করা পক্ষের ওহাব মাতুব্বর অভিযোগ করেন, ঘেরটির অধিকাংশ জমি তাদের হলেও দীর্ঘদিন তারা বঞ্চিত ছিলেন। সম্প্রতি তারা জমি বুঝে নিলেও একটি পক্ষ জোরপূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে লিজগ্রহীতা রত্তন হাওলাদার বলেন, তারা বৈধভাবে ঘেরটি লিজ নিয়েছেন এবং সেখানে মাছ চাষ করেছেন। তার দাবি, প্রতিপক্ষ জোর করে মাছ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে তারা আইনের আশ্রয় নেন, কিন্তু উল্টো তাদের ওপর হামলা করা হয়।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
