মেসির এই পারফরম্যান্স পারদেসের কাছে ‘পাগলাটে’

X
আলেক্সিস মাক আলিস্তের ও লিওনেল মেসির সঙ্গে লেয়ান্দ্রো পারেদেস (মাঝে)।
বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি প্রথম খেলার পর কেটে গেছে ২০ বছর। এখনও সেই আগের মতোই অপ্রতিরোধ্য এই মহাতারকা। সতীর্থদের প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করেই যাচ্ছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর মেসির পারফরম্যান্সকে পাগলাটে বললেন লেয়ান্দ্রো পারেদেস।
ডালাসে সোমবার ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে ২-০ গোলে জয় পায় লিওনেল স্কালোনির দল। প্রথম গোলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন মেসি। দ্বিতীয় গোলে, রেকর্ডটা তুলেন আরও উঁচুতে। বিশ্বকাপে এখন তার গোল ১৮টি।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রশ্ন ছিল, বিশ্বকাপের মাঝপথে ৩৯ ছুঁতে যাওয়া অধিনায়কের কাজের চাপ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা সামাল দিতে পারবে কিনা। দুই ম্যাচে মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও পাঁচ গোলের পর প্রশ্নটা এখন প্রতিপক্ষের জন্য, কীভাবে থামানো যাবে তাকে?
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সবগুলো গোলই করেছেন মেসি। এক ম্যাচ বাকি থাকতে দলকে নিয়ে গেছেন নকআউট পর্বে। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে দলকে বেঁধে দিয়েছেন সুর। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে যার শুরুটা করেছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও এখন মেসির, ১৭টি। তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয় ম্যাচে গোল করলেন তিনি। দুই আসর মিলিয়ে দলের সবশেষ ছয়টি গোল এলো এই মহাতারকার পা থেকেই। শিরোপাধারীরা এই আসরেও বিপজ্জনক দল থাকবে, এমন ধারণা আগে থেকেই ছিল। তবে অধিনায়কের উপর এতোটা নির্ভর করবে, সেটা কেউ অনুমান করেননি। কিন্তু সেটাই ঘটেছে। এই আসরে মেসি যেন আরও ধারাল, আরও বেশি কার্যকর এবং বেশি ক্ষুধার্ত। টানা দুই ম্যাচে জিতেছেন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। এই আর্জেন্টিনাকে হারানো কঠিন।
এতো বছর পরেও ঐন্দ্রজালিক পারফরম্যান্সে সতীর্থদের মুগ্ধ করে চলেছেন মেসি। আর্জেন্টাইন ক্রীড়া পত্রিকা টিওয়াইসির সঙ্গে মিডফিল্ডার পারদেসের কথায় যা আবারও স্পষ্ট হলো। এটা পাগলাটে। তিনি এখনও আমাদের প্রতিটি অনুশীলন সেশন, প্রতিটি ম্যাচে চমকে দিচ্ছেন। এটা আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা প্রতিটি দিন তার সঙ্গ উপভোগ করি। শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও। কারণ তিনি দুর্দান্ত একজন মানুষ।’
প্রথম গোলে ডামি করেন থিয়াগো আলমাদা। অনায়াসে শট নিতে পারতেন তরুণ মিডফিল্ডার। সেটা না করে বল ছেড়ে দেন তিনি। কাছের পোস্ট দিয়ে জাল খুঁজে নেন মেসি। পরের গোলে শট নেওয়ার সুযোগ ছিল এন্সো ফের্নান্দেসের। কিন্তু এক পাশে সরে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনিও। মেসির প্রথম শট ঠেকান অস্ট্রিয়ার একজন খেলোয়াড়, ফিরতি বল তাড়া করতে যাননি হুলিয়ান আলভারেস। ছুটে গিয়ে মেসি খুঁজে নেন ঠিকানা।
এই বয়সেও মেসি যা করছেন, তা ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না স্ট্রাইকার আলভারেসের। ২০ বছর ধরে বিশ্বের সেরা তিনি, ইতিহাসেরই সেরা ফুটবলার। এখনও তিনি নিজেকে মেলে ধরছেন, এই বয়সেও দেখাচ্ছেন যে তার প্রতিভা ও সব জাদু অটুট।”
আর্জেন্টিনা বয়সের ভারে একজন ম্লান হতে থাকা তারকাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছে না কিংবা তার শেষ টুর্নামেন্টে, তাকে টানছেও না। চার বছর আগে কাতারে যিনি দলকে শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনি এবারও দলকে পথ দেখাচ্ছেন সামনে থেকে। সতীর্থরা এখনও তাকে এমন মুহূর্তে খুঁজছেন, যখন তিনি ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিবেন।
দুই দশক পরও দেখা যাচ্ছে, আর্জেন্টিনা দলের সবকিছুরই ভরকেন্দ্রে মেসি।